প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম

অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে পূর্বাচলে প্লট আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। দুদক প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দুদকের দুই মামলায় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের জামিন আবেদন করা হয়। দুদকের পক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। পরে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দিয়েছেন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক পাপন কুমার শাহ। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিচারপতি হিসেবে কর্মরত থাকাকালে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ পাঁচ কোটি ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৮২০ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। মামলায় এসব সম্পদের মালিকানা অর্জন করে তা দখলে রাখা এবং হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
প্লট আত্মসাতের অভিযোগে একই দিনে আরেক মামলা করেন সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। বিচারপতি মানিক ছাড়াও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে ওই মামলায়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও মিথ্যা হলফনামার মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নেন। পরবর্তীতে লিজ দলিলের শর্ত ভঙ্গ করে বেআইনিভাবে প্লট হস্তান্তর ও আত্মসাৎ করেন।
দুদক বলছে, নিয়ম অনুযায়ী রাজউকের অধিক্ষেত্রে কারও পূর্বে বাড়ি থাকলে নতুন প্লট বরাদ্দ দেওয়া যায় না। আবেদনকারীকেও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষরিত হলফনামা দিতে হয়, যাতে বলা থাকবে তিনি বা তার নির্ভরশীলরা এ এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট বা বাড়ির মালিক নন। কিন্তু, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বাড্ডা থানার ভাটারা মৌজায় পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি এবং নির্মাণাধীন বাড়ি থাকা সত্ত্বেও হলফনামায় অসত্য তথ্য দেন। পরবর্তীতে রাজউক কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে পূর্বাচল প্রকল্পের প্লট নিজের নামে রেজিস্ট্রি করেন।
জ/উ