প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

মার্কিন নিরাপত্তার স্বার্থে দক্ষিণ কোরিয়া তার নিজস্ব স্বাধীনতা বিসর্জন দিচ্ছে বলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সিউলের সিভিক লিডার ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটনের সাথে নীতিগত সমন্বয়ের নামে কার্যত দক্ষিণ কোরিয়ার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংকুচিত করা হচ্ছে।
লয়ার্স ফর এ ডেমোক্রেটিক সোসাইটির প্রতিনিধি ইউন বোকনাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের সামরিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার নীতি উপদ্বীপে শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, সিউল এবং ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতিগত কাঠামো দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব নীতি নির্ধারণী ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে জোটের আধুনিকায়নের কথা বলা হলেও দক্ষিণ কোরিয়াকে মূলত চীনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষা দেয়াল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোরিয়া কনফেডারেশন অফ ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে হ্যাম জে-গিউ প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন সেনারা বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ উত্তর কোরিয়াকে মোকাবিলার পরিবর্তে চীনের বিস্তার রোধে বেশি নিয়োজিত কি না? এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের চাপে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সামরিক ব্যয় সাড়ে সাত শতাংশ বৃদ্ধি করেছে, যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। শান্তি রক্ষাকারী আন্দোলন কর্মীরা অবিলম্বে বসন্তকালীন যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন, কারণ পিয়ং ইয়ং একে আক্রমণের মহড়া হিসেবেই দেখে আসছে।
প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং এমন একটি রাজনৈতিক ধারা থেকে উঠে এসেছেন যারা ঐতিহাসিকভাবে উত্তর কোরিয়ার সাথে সংলাপ ও শীর্ষ বৈঠকের পক্ষপাতী ছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি পিয়ং ইয়ংয়ের সাথে আলোচনার চেয়ে ওয়াশিংটনের সাথে জোট রক্ষাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আন্দোলনকারীরা ২০১৮ সালে মুন জায়ে-ইন এবং কিম জং-উনের মধ্যে হওয়া উত্তেজনা প্রশমন চুক্তিটি পুনরায় কার্যকর করার দাবি জানালেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন বাঙ্কার-বাস্টিং ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তজনা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্র: প্রেস টিভি
জ/জাই