প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:০২ পিএম

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বার্তাটি প্রচার করা হয়।
ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবিকাঠি এখন জনগণের হাতে। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথ খুলে যাবে। তিনি সবাইকে নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে এবং অন্যদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে একটি অসাধারণ অর্জন। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সে লক্ষ্যেই ইতিমধ্যে কিছু সংস্কার করা হয়েছে। আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের জন্য দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সম্মতি প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়লে বাংলাদেশ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্তির পথে এগোবে। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। সরকার ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে।
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সনদ অনুযায়ী বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে, রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতা সীমিত হবে।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী নির্বাচনের দিন গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রাষ্ট্রকে নিজেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী গড়ে তোলার সুযোগ নিতে হবে।