গৃহায়ণের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বাড়ি ভাংচুর-লুটপাট: দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ভুক্তভোগী
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৭ পিএম

মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় দীর্ঘ ২৭ বছর পূর্বে বাড়ি কিনে বসবাস করছিল একটি পরিবার। কিন্তু এক জালিয়াত অপরাধি চক্র সেই বাড়িটি দখলে নিতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া ওয়ারিশনামা তৈরি করে ও ভূয়া মামলা দিয়ে ওই বাড়ির মালিককে ভয় দেখিয়ে বের করে দিয়েছে মাঈনুদ্দিন, টুটুল, সাইদুর, লতিফুরের সন্ত্রাসী বাহিনী। পরবর্তীতে ভেকু দিয়ে ওই বাড়ি ভেঙ্গে দিয়ে মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ওই বাড়ির মালিক খায়রুন্নাহার ও তার দুই ছেলে ইয়াসিন বেগ ও সোহেল বেগ স্বপরিবারে আতঙ্কিত হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ালেও তাদের আশ্রয় মিলছে না, এমনই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।

জানা যায়, এরই মধ্যে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও উচ্ছেদের পর দখলদাররা জোরপূর্বক ভবন নির্মাণ করছে। মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকার ১৩ নম্বর রোডের ২৬ নং বাড়ির সাড়ে ৩ কাঠা পরিমাণ জমিটি স্থানীয় প্রভাবশালী এ কেএম ফেরদৌসের সহায়তায় জনৈক ফিরোজা খাতুনের কাছ থেকে ২৩/০৩/১৯৯৯ ইং সালে ২৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ১৭০৯ নং আমমোক্তারনামা দলিল মূলে কিনে নেন আব্দুল মতিন বেগ। কিন্তু ওই বাড়িটি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একাধিকবার একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছিলেন ওই জমির পূর্বের মালিক ফিরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে। গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভুক্তভোগীদের উচ্ছেদের পরও স্থানীয় প্রভাবশালীর হুমকির মুখে বাড়ি ফেরা হয়নি ওই অসহায় পরিবারের। গত ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল স্থানীয় লতিফুর রহমান, মামুন ও টুটুল বাহিনী, রূপনগর থানা পুলিশ ও গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর অফিসের কর্মকর্তা শওকত হোসেনের যোগসাজশে মরহুম আব্দুল মতিনের সাড়ে ৩ কাঠার দোতলা বাড়িটি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয় এবং মালামাল লুট করে, এতে তাদের প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এ ব্যাপারে জমির দাতা স্থানীয় অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে দায়ী করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এসব ঘটনার পর বাড়ি বাঁচাতে খায়রুন্নাহার, ইয়াসিন ও সোহেল আইনের আশ্রয় নেয়ায় ক্ষুব্ধ হন ষড়যন্ত্রকারীরা। মামলা চলমান থাকাবস্থায় ওই বাড়িটি ভাংচুর ও লুটপাট করার ঘটনা ঘটায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক আ. বশির গাজীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। যার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এদিকে, রাজউক বাড়ি তৈরির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে চিঠি দিলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ও গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (মিরপুর-২) কতিপয় কর্মচারীর প্ররোচনায় বাড়িটি দখলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন : ভারতে যাওয়ার পথে মানবপাচারকারীসহ ৪ যুবক আটক

ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য মৃত আঃ মতিনের ছেলে মোঃ ইয়াছিন বেগ জানান, পূর্বের মালিক ফিরোজা খাতুনের নামে অগ্রনী ব্যাংকে ৬৪,৭৬,০০০ টাকা খেলাপী ঋণ ছিলো, যাহা তারা অবগত ছিলোনা। খেলাপী ঋনের কারনে বাড়িটি ২০০৬ সালে নিলাম হয়ে যায়। জনৈক হোসনেয়ারা বেগম নিলামে ওই বাড়িটি কিনে নেন। খেলাপী ঋণের ৬৪,৭৬,০০০ টাকা হোসনেয়ারার নামে ভূক্তভোগী পরিবার পরিশোধ করে। ঋণ পরিশোধের পর অগ্রণী ব্যাংক মিরপুর শাখা ম্যানেজার শামছুল হক বাড়ির মূল দলিলটি তাদেরকে না দিয়ে অনৈতিকভাবে সাবেক মালিক ফিরোজা বেগমকে দিয়ে দেয়। ফিরোজা খাতুন অসৎ উদ্দেশ্যে বাড়িটি প্রথমে সাইফুল ইসলাম জিয়া গং-এর কাছ থেকে বায়না করে ১ কোটি টাকা নেয়, লতিফুর রহমানের কাছে তৃতীয়বারের মতো বিক্রি করে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তায়েবুর রহমান আশিক ও অফিস সহকারী একেএম শোয়েবুল আহসানের বিরুদ্ধে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সচিব বারাবর অভিযোগ দেয়া হয়েছে (স্মারক নং ২৫.০০.০০০০.০৫৩.০৩১.০০৬.২০০১(অংশ-১) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সচিবের পক্ষ থেকে উপ-সচিব মিস সালমা আক্তার খুকী ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

মৃত. আব্দুল মতিন বেগের স্ত্রী খাইরুন্নাহার জানান, বাড়িটি ভেঙ্গে দেয়ার পর আমরা খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছি, একই জমিনের তৃতীয়বারের মতো অবৈধ রেজিষ্ট্রি বাতিলপূর্বক ক্ষতিপূরণসহ বাড়িটি ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানাচ্ছি বলে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত লতিফুর রহমান জানান, ভূমি আইন মেনেই জমিটি ক্রয় করেছি। তবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. বশির গাজী জানান, মো. ইয়াছিন বেগের অভিযোগের আলোকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্ত চলছে, উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানী হয়েছে। উভয় পক্ষের কাগজপত্র বিস্তারিত যাচাই করে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  অপরাধ   ভাংচুর   লুটপাট     







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft