
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার নারী দলের তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটার অ্যালিসা হিলি। এবার স্ত্রীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ দলের পেসার মিচেল স্টার্ক।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে হিলির একটি ছবি শেয়ার করে স্টার্ক লিখেছেন মাত্র তিনটি শব্দ-“Proud of ya”, সঙ্গে একটি হৃদয়ের ইমোজি। পাশাপাশি তিনি হিলির অস্ট্রেলিয়া ক্যারিয়ার উদযাপন করে আরেকটি আলাদা পোস্টও দেন। প্রায় এক দশক ধরে দাম্পত্য জীবনে থাকা এই তারকা দম্পতি ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
উইলো টক পডকাস্টে-যেটির তিনি সহ-উপস্থাপক-অ্যালিসা হিলি নিজেই অবসরের ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে পর্দা নামছে তার ১৬ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের।
নারী ক্রিকেটে হিলির অর্জন ঈর্ষণীয়। তিনি জিতেছেন ছয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, দুটি ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ এবং একটি কমনওয়েলথ গেমসের স্বর্ণপদক। রান সংগ্রাহক হিসেবেও তিনি অস্ট্রেলিয়ার সেরাদের একজন-সব ফরম্যাট মিলিয়ে তার ৭,১০৬ রান, যা তাকে মেগ ল্যানিং (৮,৩৫২) ও এলিস পেরি (৭,৬০৭)-এর পর তৃতীয় স্থানে রেখেছে।
এক বিবৃতিতে হিলি বলেন, ‘মিশ্র অনুভূতি নিয়েই বলতে হচ্ছে, আসন্ন ভারত সিরিজই হবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আমার শেষ সিরিজ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার প্রতি এখনও আমার ভালোবাসা আছে, কিন্তু শুরু থেকে যে প্রতিযোগিতার তাড়না আমাকে চালিত করেছে, সেটার কিছুটা হারিয়ে ফেলেছি। তাই মনে হচ্ছে, এখনই বিদায় নেওয়ার সঠিক সময়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমি খেলছি না এবং দলের প্রস্তুতির সময়ও খুব সীমিত। তাই ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে থাকছি না। তবে ঘরের মাঠে ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্ট দলে নেতৃত্ব দিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করার সুযোগ পেয়ে আমি রোমাঞ্চিত।’
এই ঘোষণার ফলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে হিলির অবসর কার্যকর হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গেই। ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বহুমাত্রিক সফরের শুরুতে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাকে দেখা যাবে না। এর অর্থ, সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিজের শহরে বিদায়ী সংবর্ধনার সুযোগও হারালেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শেষ দিকে ইনজুরিও ভুগিয়েছে হিলিকে। সাম্প্রতিক সময়ে আঙুল ভেঙে ডব্লিউবিবিএল মৌসুমের শুরুতে মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। পাশাপাশি কাফ ইনজুরির কারণে ওয়ানডে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুটি গ্রুপ ম্যাচও খেলতে পারেননি।
হিলি বলেন,‘শেষ কয়েক বছর মানসিকভাবে খুবই ক্লান্তিকর ছিল। কিছু ইনজুরি ছিল, কয়েকবার নিজেকে নিংড়ে দিতে হয়েছে, কিন্তু সেই শক্তির ভাণ্ডার ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবসময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে, জিততে ও নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে ভালোবাসতাম। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা পুরোপুরি না হারালেও কিছুটা কমে গেছে।’
অবসরের ঘোষণার ধরন নিয়েও আক্ষেপ ঝরেছে হিলির কণ্ঠে।
‘আমি কখনোই এভাবে ঘোষণা দিতে চাইনি। চেয়েছিলাম টেস্ট ম্যাচ শেষে চুপচাপ বুট জোড়া তুলে রেখে উদযাপন করতে।’
তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তের কারণে বিষয়টি বদলাতে হয়েছে বলে জানান তিনি। এতে করে বিশ্বকাপের আগে দলের অন্য খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি হবে।
হিলিকে ছাড়াই অস্ট্রেলিয়া দল এখন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেবে। ১৩ জুন ম্যানচেস্টারে সেই টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ম্যাচ।
বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আরও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে।
জ/ই