
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে অর্থনীতি, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের ১৬৭টিতেই আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নির্বাচিত হন। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকার করে ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র মানুষের ওপর নিষ্ঠুরতম অভিযান পরিচালনা করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ মানব ইতিহাসের এক অনন্য সাধারণ ঘটনা। কেননা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মাত্রা অর্জন করে। পাকিস্তানের পক্ষে তথা আমেরিকার নিক্সন প্রশাসনের প্রকাশ্যে অবস্থান গ্রহণ, অন্যদিকে মুক্তিকামী জনগণের পক্ষে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সুস্পষ্ট সমর্থন জানায়।
বস্তুত, তৎকালীন দুই পরাশক্তির মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রতিফলিত হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। একই রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।
পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক অবস্থান সর্বজনবিদিত। জন্মলগ্ন থেকেই পাকিস্তান ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মৈত্রী সম্পর্কে আবদ্ধ। যা সেন্টো চুক্তির অধীন পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন সমর্থন তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল খুবই রহস্যজনক ও বিতর্কিত। মার্কিন সরকারি নীতি পাকিস্তানপন্থি হলেও কংগ্রেস এবং সিনেটের বিপুল সংখ্যক সদস্য, আমলা ও বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক। মার্কিন জনমত ও গণমাধ্যম ভূমিকা ছিল বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও পরারাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার পাকিস্তানের জন্য নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন যুগিয়ে গেলেও গোপনে ভারতের সাথে একটি বহুপাক্ষিক সম্পর্ক ধরে রাখাই ছিল মার্কিন নীতির গুরুত্বপূর্ন অঙ্গীকার। সেই সময়কার হোয়াইট হাউসের দলিল দস্তাবেজ থেকে প্রাপ্ত তথ্য, স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফরেন রিলেশনস অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং জাতীয় নিরাপত্তা আর্কাইভ থেকে নেওয়া গোপন দলিল ও তারবার্তায় এসব কিছুর উল্লেখ পাওয়া যায়।
ভারতের ‘ন্যাশনাল মেরিটাইম ফাউন্ডেশন’-এর গবেষক রাঘবেন্দ্র মিশ্র তাঁর ‘রিভিজিটিং দ্য ১৯৭১ ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ অ্যাক্সিডেন্ট’ গবেষণাপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের রহস্যজনক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তাছাড়া সাংবাদিক মিজানুর রহমান খাঁন ‘১৯৭১ আমেরিকার গোপন দলিল’ শীর্ষক তাঁর এক নিবন্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশে) ইসলামাবাদের ভুল পদক্ষেপের পরিণতি জানলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যার প্রমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মার্কিন সরকারের গোপন দলিল ও তারবার্তায় এ সম্পর্কে উল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়াও আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ১৯৭৮ সালে তাঁর স্মৃতিচারণমূলক আত্মকথায় লিখেছেন, “আমরা জানতাম ইয়াহিয়া খানের পরিণতি। পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার দাবির কাছে ইয়াহিয়া খান নতি স্বীকার করবেন।”
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন নীতির চারটি পর্যায় ছিল। যার মধ্যে অন্যতম নীতি ছিল কৌশলগত নিরপেক্ষতা। বাংলাদেশে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান বিশেষ করে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান বাহিনী নিষ্ঠুরতম অভিযান পরিচালনা করে। সেই অভিযানে হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষ নিহত হয়। মার্কিন সরকার পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু ১৫ এপ্রিল ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ কিটিং ওয়াশিংটনের এ দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনা কোনোভাবেই অভ্যন্তরীণ হতে পারে না। এটা পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে জবরদস্তিমূলক বলপ্রয়োগ। ৭ মে ওয়াশিংটন পাকিস্তানে সমরাস্ত্র সরবরাহ ও আর্থিক সাহায্য স্থগিত রাখে। ১২ জুন প্রেসিডেন্ট নিক্সন পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান।
জুলাই ১ম সাপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ভারত সফর করেন। সফরে তিনি ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে দেখা করেন। ৭ জুলাই দিল্লীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে হেনরি কিসিঞ্জার, কেনেথ কিটিং ও হেরাল্ড স্যান্ডার্স এবং ভারতের পক্ষে জগজীবন রাম, প্রতিরক্ষা সচিব কেবি লাল ও মিসেস রুকমিনি মেনম অংশ নেন। মিটিংয়ে কিসিঞ্জার বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে চীন কোনো ব্যবস্থা নিলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর মনোভাব গ্রহণ করবে। সিআইএর দলিলে এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়, পূর্ব পাকিস্তান সংকটে চীন ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে ওয়াশিংটন দিল্লীকে সব ধরণের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
নিক্সন প্রশাসন কেন ইয়াহিয়া খানের পক্ষে ছিলেন, তার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যতীত, আরো একটি কারণ ছিল যে, জেনারেল ইয়াহিয়া ছিলেন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে একমাত্র বাহক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের স্বাভাবিকরণের ভিত্তি স্থাপনে ইয়াহিয়া খান কার্যকরী গো-বিটুইন হয়ে উঠেছিলেন। যদিও যুদ্ধের আগেই যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) পাকিস্তানকে কষ্ট দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকে সমর্থন করবে না। তবে নিক্সন প্রশাসন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া শরণার্থীদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে ভারতকে কয়েক কোটি ডলার প্রদান করে।
একাত্তরের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কাশ্মির নিয়ে রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে দরকষাকষি অব্যাহত রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের ভয় ছিল, যুদ্ধে ভারত পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মির দখল করে নিবে। নিক্সন প্রশাসন পূর্ব পাকিস্তানে ইসলামাবাদের সামরিক অভিযানের পরিণতি জানলেও এ ব্যাপারে নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন। এবং ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখেন। পাকিস্তানে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ ও ভারতে অবস্থানরত শরনার্থীদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান পূর্ব পাকিস্তানে ভারতের ভূমিকাকে নীরব সমর্থন হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। তাছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব ঠেকাতে সোভিয়েত ইউনিয়নও ভারতের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি সই করে। পরবর্তী সময়ে এই চুক্তিই হয়ে উঠে যুদ্ধের প্রকৃত ‘গেম চেঞ্জার’। ২৫ মার্চের পর বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক শরণার্থী ভারতে ঢুকতে শুরু করে। ইন্দিরা গান্ধী বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি বাঙালিদের বিরুদ্ধে পাক নির্যাতন বন্ধ করার আহ্বান জানান।
তখনকার ভারতীয় সেনাপ্রধান স্যাম মানেকশ-ও এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ২৭ এপ্রিল ক্যাবিনেট মিটিংয়ের পরই ইন্দিরা গান্ধী তাকে ডেকে বলেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে এই অবস্থায়- ভারত কেন সেনা অভিযান চালাবে না? তিনি গান্ধীকে জানিয়ে দেন, সেনারা তৈরি হতে একটু সময় লাগবে। তাছাড়া বর্ষাকালে আক্রমণ করাটা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হত না, কারণ তখন গোটা বাংলাদেশ এক প্রকাণ্ড জলাভূমির চেহারা নেয়। অনেকটা এই কারণেই জুন থেকে অক্টোবর-বর্ষার এই লম্বা সময়টা ভারত চেয়েছিল যে কোনো ভাবে যুদ্ধটা ঠেকিয়ে রাখতে। বিষয়টি লে: জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরাও স্বীকার করেছেন।
তাছাড়া পকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের চূড়ান্ত সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির মাঝেই ইন্দিরা গান্ধি ওয়াশিংটন সফর করেন। উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তান পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে অবহিত করেন। ওয়াশিংটন সফর থেকে ফিরে এসেই তিনি যুদ্ধের পুরো পুস্তুতি নিতে থাকেন। ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয় ৩রা ডিসেম্বর। আমেরিকা যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে তুলে ৪ ও ১২ ডিসেম্বরে যা সোভিয়েত ভেটোতে বাতিল হয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর পেন্টাগনে সিআইএর এক জরুরি মিটিং ডাকা হয়। যেখানে বলা হয় ভারত-পাকিস্তান এই যুদ্ধ ১০ দিনের মতো চলতে পারে। মিটিং এ ভারতের গোপন অভিপ্রায় নিয়ে কথা উঠে। ভারতের সেনাকর্মকর্তাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মির নিয়ে। পাক নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর দখল নেওয়ার বিষয়টি অন্যতম এজেন্ডা ছিল। যদিও ইন্দিরা গান্ধী সেই সিদ্ধান্তে একমত ছিলেন না। কিন্তু যুদ্ধে ভারতের শীর্ষ সেনাকর্মকর্তাদের অভিপ্রায় ছিল, কোনো মূল্যে পাক অধিকৃত কাশ্মির দখল নেওয়া। ভারতের সেই উদ্দেশ্যকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র বে-অব-বেঙ্গলে সপ্তম নৌবহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে আমেরিকার কোনো লক্ষ্য ছিল না, তাদের মূল লক্ষ্য ছিলো পশ্চিম পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষা করা।
১৪ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে সপ্তম নৌবহর প্রেরণ প্রশ্নে মার্কিন টেস্ট ডিপার্টমেন্ট একটি টেলিগ্রাম পাঠায় দিল্লিতে। ১৪ ডিসেম্বও পেন্টগনের এক সংবাদ সম্মেলনে সপ্তম নৌবহর মোতায়েন নিয়ে সেক্রেটারি লেয়ার্ড ইঙ্গিত দেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কনটিনজেন্সি পরিকল্পনায় ইভাকুয়েশন কাজে এর ব্যবহার প্রয়োজন হতে পারে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১০ ডিসেম্বরেই জাতিসংঘের কাছে ৬ দফার মধ্যে আত্মসমর্পনের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমেরিকা তাতে বাদ সাধে। যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মাধ্যমে না যেয়ে সরাসরি আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিতে পাকিস্তানকে প্ররোচিত করে। জাতিসংঘের প্রসেসে গেলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পেতে আরো দীর্ঘসময় লেগে যেত পারত, এবং নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হতো। যুক্তরাষ্ট্র ভারত ও রাশিয়ার সাঙ্গে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় পশ্চিম সীমান্তে যুদ্ধ বন্ধ এবং ঢাকা বিমানবন্দরে বিমান হামলা বন্ধ থাকবে।
১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় হেনরি কিসিঞ্জার, সোভিয়েত চার্জ দ্য এফেয়ার্স ভরনস্তব ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হেগ এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে সোভিয়েত চার্জ দ্য এফেয়ার্স বলেন, নতুন যুদ্ধ বিরতিতে রাশিয়া ভেটো প্রয়োগ করবে না। কিসিঞ্জার রুশ প্রস্তাবটি ত্রুটিপূর্ন বলে প্রত্যাখ্যান করেন। কিসিঞ্জার বলেন, সোভিয়েত সরকারের কাছ থেকে নিশ্চিয়তা পেয়ে আমরা আশ্বস্থ হচ্ছি যে, পাকিস্তান ও অধিকৃত কাশ্মীর ভারত দখল করবে না। জবাবে রুশ দূত বলেন, আমরা দিল্লীকে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। কিসিঞ্জারের এই বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় য়ে, ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন থেকে গৃহিত। যা পশ্চিম পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ভবিষ্যতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর সত্যতা পাওয়া যায় ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পনের পর কিসিঞ্জার নিক্সনকে অভিনন্দন জানান, ঠিক এই ভাবে “অভিনন্দন প্রেসিডেন্ট, আপনি পশ্চিম পাকিস্তান রক্ষা করতে পেরেছেন।“ পরে নিক্সনও বলেন, এই ব্যাপারে সোভিয়েত ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। যুদ্ধ শেষ হলে দেখা যায় পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি রাতারাতি বদলে যায়। এবং এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ভারতকে একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
লেখক: সাংবাদিক