থাই-কম্বোডিয়া সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়াল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৩ এএম

কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সীমান্তে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত গতকাল রবিবার দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করলেও থাইল্যান্ড তা অস্বীকার করেছে। খবর বিবিসির

উপনিবেশিক আমলের সীমান্ত নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে শুরু হওয়া এই সংঘাতে দুই দেশের প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি তথ্য মতে, প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে এই সংঘর্ষে পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

কম্বোডিয়ার সীমান্ত প্রদেশ বান্তেয় মিয়ানচের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ৬৩ বছর বয়সী শন লিপ এএফপিকে বলেন, ‘আমি এখানে ছয় দিন ধরে আছি। সীমান্ত এলাকায় এই লড়াই চলতে থাকায় আমরা খুব কষ্ট পাচ্ছি। আমি চাই এটি বন্ধ হোক।’ তিনি নিজের বাড়ি ও গবাদিপশু নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

চলমান সীমান্ত সংঘাতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ জন থাই সেনা। নিহতদের মধ্যে কম্বোডিয়ার ১১ জন বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। উভয় পক্ষই সংঘর্ষ শুরুর জন্য একে অপরকে দায়ী করছে এবং আত্মরক্ষার জন্যই প্রতিরোধ যুদ্ধ করছে বলে দাবি করেছে।

অন্যদিকে গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে, থাই নেতারা পরে জানান, উভয় দেশের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি। রোববার সকালেও উভয় সরকার জানিয়েছে, সীমান্তে গোলাগুলি চলছে।

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুরাসান্ত কংসিরি জানান, কম্বোডিয়া রাতভর সীমান্তবর্তী একাধিক প্রদেশে আমাদের ওপর গোলা ও বোমাবর্ষণ করেছে। অন্যদিকে, ক্যাম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালি সোচেতা বলেন, মধ্যরাত থেকে থাইল্যান্ড সীমান্ত এলাকায় আমাদের লক্ষ্য করে মর্টার ও বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায়, শনিবার কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের সঙ্গে সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বহু অভিবাসী শ্রমিক আটকা পড়েছেন। বান্তেয় মিয়ানচের একটি অস্থায়ী শিবিরে থাকা চেভ সোকুন জানান, তাঁর স্বামী থাইল্যান্ডেই থেকে গেছেন এবং এখন এই যুদ্ধের কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ‘সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি (স্বামী) ফিরতে পারছেন না। আমি তাঁর জন্য খুব চিন্তায় আছি।’ অন্যদিকে থাইল্যান্ডের সুরিন প্রদেশে ৩৮ বছর বয়সী সংগীত শিক্ষক ওয়াত্থানাচাই কামংগাম জানান, রবিবার ভোরে তিনি আকাশে রকেটের রেখা ও দূর থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

সংঘাতের স্মৃতি ধরে রাখতে তিনি বাঙ্কারের দেয়ালে ট্যাংক ও সেনাদের ছবি আঁকছেন।

জ/জ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft