রাজধানীতে মার্কেট নির্মাণ করে জমির মালিকের প্রতারণায় নিঃস্ব এক ভুক্তভোগী
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৩৪ পিএম

চুক্তিবদ্ধ হয়ে মার্কেট নির্মাণ করে জমির মালিকের প্রতারণায় নিঃস্ব হয়ে গেছেন মো. জামাল হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী। তদন্ত সংস্থা ওই মার্কেট নির্মাণের বায়নাপত্র, দলিলপত্র ও চুক্তিপত্রের কপি আমলে না নিয়ে প্রাবাসী জামাল হোসেনকে ওই মার্কেটের সম্পত্তি দেখাশুনা ও ভাড়া আদায়কারী হিসেবে চিহ্নিত করায় হতভম্ব হয়ে যান জামাল জোসেন ও ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তিরা।

অভিযোগে জানা যায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর থানা এলাকার শনির আখড়ার গোবিন্দপুর বাজার মসজিদ এলাকার একটি মার্কেট তৈরি করতে খান মো. ইকবাল হোসেনের সাথে মাসিক দুই লাখ টাকা ভাড়ার চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন প্রবাসী মো. জামাল হোসেন। কিন্তু মার্কেট তৈরির পর চুক্তি ভঙ্গ করে প্রবাসীকে নিঃস্ব বানাতে সেটা দখল করে নিয়েছে ইকবালের লোকজন। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করেও এ সমস্যা থেকে নিস্তার মেলেনি প্রবাসী জামালের।

আরও জানা যায়, গত ২০২০ সালের ১ মার্চ ইকবাল হোসেনের সাথে ১৪/৪, নম্বর গোবিন্দপুর বাজারের মসজিদ এলাকার জমিতে মার্কেট তৈরির একটি চুক্তি করেন জামাল হোসেন। তিনি এ সময় মাসিক দুই লাখ টাকা ভাড়ার চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু প্রবাসী জামাল তার উপার্জিত সমস্ত টাকা দিয়ে, ঋণ করে এবং গ্রামের বাড়ীর জমি বিক্রির টাকা দিয়ে ওই বাজারে নবীন-প্রবীন নামে একটি ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার জন্য মেগা শপ প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে দৈনিক ও মাসিক ভাড়ার ভিত্তিতে মার্কেটে জমজমাট পরিবেশ সৃষ্টি করেন। চুক্তি মোতাবেক ইকবালকে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকা প্রদান করেন। এ অবস্থা চলতে থাকার পর হঠাৎ করেই গত ২০২০ সালের ১ নভেম্বর মো. আমির হোসেনের সাথে একটি দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্র করেন ও অগ্রিম টাকা নিয়ে লিটনদের অগ্রিম টাকা পরিশোধ করেন এবং তাকে দোকান বুঝিয়ে দেন। এরপর ও সে জামালের কাছে অগ্রিম টাকা দাবি করে। এ অবস্থায় গত ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর আমির হোসেনের নেতৃত্বে দলবদ্ধ দুর্বৃত্তরা জামালকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি প্রদান করে একটি কাগজে মো. শাহজাহান শিকদার নামের এক ব্যক্তিকে ওই মার্কেটের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে জামালকে জিম্মি করে রাখে এবং তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দিতে থাকে। এমন অবস্থায় তিনি তার জীবনের বিনিময়ে শাহজাহান শিকদারকে মার্কেটটি হস্তান্তর করতে বাধ্য হন। এ সময় তারা শাহজাহান শিকদার তার হাতে লিখা একটি কাগজে জোড়পূর্বক স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করে। পরে সে ইকবাল হোসেনের মাসিক ভাড়ার টাকা পরিশোধ করার পর তার টাকা তাকে দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তারা। কিন্তু বিগত ১৯/১১/২০২০ ইং তারিখের পর থেকে জামালকে মার্কেটের কোনো আয় প্রদান করেনি। এমনকি তার বিনিয়োগ করা টাকাও প্রদান করেনি। তার পাওনা টাকা চাইতে গেলেই তারা জামালকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। যার প্রেক্ষিতে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় একটি জিডি করেন। পরে তিনি ঢাকার সিএমএম কোর্টে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৯৭/২০২৫ইং)। মামলা দায়েরের পর আদালত ঘটনা তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে পিবিআই আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা বায়নাপত্র, দলিলপত্র ও চুক্তিপত্রের কপি আমলে না নিয়ে প্রাবাসী জামাল হোসেনকে ওই মার্কেটের সম্পত্তি দেখাশুনা ও ভাড়া আদায়কারী হিসেবে চিহ্নিত করে। যাতে হতবাক হয়েছেন অভিযোগকারী ও ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তিরা।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  অপরাধ   প্রতারণা   বায়নাপত্র   দলিলপত্র   চুক্তিপত্র   রাজধানী  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft