রাজধানীতে দুইজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা: গ্রেপ্তার ৩
খন্দকার হানিফ রাজা
প্রকাশ: বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৪, ৯:০৪ পিএম

রাজধানীতে পৃথক দুইটি ঘটনায় দুই জনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে হাজারীবাগে ছুরিকাঘাতে আহত সাবেক যুবদল নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি হাজারীবাগ ২২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

অপরদিকে, রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকায় সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে ছুরিকাঘাতে আহত এক শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তারা নাম ইসমাঈল হোসেন রাহাত (১৭)। রাহাতকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হল, হাসান (১৮), হোসেন (১৭) ও তন্ময় (১৯)।
গতকাল বুধবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক যুবদল নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া মারা যান। 

তিনি গত ১৫ নভেম্বর বিকেল পৌনে ৫টার দিকে হাজারীবাগ এনায়েতগঞ্জ জামে মসজিদের সামনে আক্রমণের শিকার হন। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

নিহত জিয়ার বড় ভাই মো. সায়েম জানান, হাজারীবাগ ভাগলপুর লেনে তাদের স্থায়ী বাড়ি। জিয়া অবিবাহিত ছিলেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জিয়া ছিলেন মেজো। গত ১৫ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় হাজারীবাগ এনায়েতগঞ্জ মসজিদ থেকে মাগরিবের নামাজ পড়ে যখন জিয়া বের হন, তখন বিল্লাল, রিপন, মাসুদসহ ৩০-৪০ জনের একটি দল তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে হাসপাতালে নেয়া হয়, সেখানে অস্ত্রোপচারের পর আবার ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। বুধবার ভোরে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে হাজারীবাগ পাম্পের পাশে স্থানীয় যুবকদের নিয়ে একটি সালিশ বসে। সেখানে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী সুমনের নির্দেশে কয়েকজন যুবকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে কয়েকজন যুবক। এর মধ্যে জিয়ার ভাগনের এক বন্ধুর কাছ থেকেও টাকা নেয়া হয়। পরদিন যাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে তারা এলাকায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে। জিয়া ওই যুবকদের ফুসলিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে ওই দিন সন্ধ্যায় সুমনের নির্দেশে বিল্লাল, রিপন, মাসুদসহ অনেক যুবক জিয়াকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৃতদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। হাজারীবাগ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।
এ প্রসঙ্গে হাজারীবাগ থানার এসআই মো. মাহবুবুল আলম জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে গত ১৫ নভেম্বর বিকেলে এনায়েতগঞ্জ এলাকায় হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জিয়াকে আঘাত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন।
এদিকে গত সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কাকরাইল অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ইসমাঈল হোসেন রাহাত।

গত সোমবার বিকাল সারে ৩টার দিকে শান্তিবাগ রবিউলের বিরিয়ানির দোকানের সামনে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটে। প্রথমে চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে স্বজনরা শান্তিবাগের বাসায় নিয়ে যায়। রাতে অবস্থার অবনতি হলে কাকরাইলের অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নতদন্তের জন্য বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

এ প্রসঙ্গে নিহত রাহাতের মামা মইন উদ্দিন জানান, তাদের বাড়ি ফরিদপুর কোতয়ালীর ঘাটপাড়া গ্রামে। বর্তমানে শাহজাহানপুর শান্তিবাগ এসি মসজিদ গলি এলাকায় ভাড়া থাকেন। রাহাত রাজারাবাগ পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করে। পরে ফরিদপুর টেক্সটাইল কলেজে ভর্তি হয়েছিল। গতকাল বিকালে শান্তিবাগ বাসার কিছুটা দূরে রাহাতের স্কুলের সহপাঠিরা মারপিট করে ও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এক ভাই এক বোনের মধ্যে রাহত ছিল বড়। রাহাতের বাবা বেলায়েত হোসেন পেশায় প্রাইভেটকার চালক।
ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাহাত জানিয়েছিল, রাজারবাগ স্কুলে থাকা কালীন সহপাঠি  হাসান, হোসেন ও হিমেল তাকে সিনিয়র হিসেবে সম্মান দিতে বলতো। কিন্তু আমি তাদের কথা শুনি নাই। এর জের ধরে হাসান, হোসেন, হিমেল, তন্ময়সহ আরো কয়েক জন মিলে শান্তিবাগে আমাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে পিঠের দুই জায়গায় ছুরিকাঘাত করে বলে জানায় সে।

এ প্রসঙ্গে শাহজাহানপুর থানার এসআই মেহেদী হাসান জানান, সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বে প্রতিপকক্ষের ছুরিকাঘাতে মারা যায় রাহাত। এই ঘটনায় রাহাতের বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। এই ঘটনায় হাসান, হোসেন, ও তন্ময়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদেরর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft