
দুর্গা পূজা আর মাত্র কয়েকদিন। মৃৎ শিল্পীদের (কারিগর) দম ফেলার সময় নেই! ইতোমধ্যেই প্রায় সকল মন্ডপেই প্রতিমায় মাটির কাজ লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রঙ ও সাজসজ্জার কাজ।
রং তুলির আচরে ফুঁটিয়ে তোলা হচ্ছে মাতৃরূপা দেবীমূর্তি। মন্ডপ কমিটির সদস্যরা মন্ডপের আলোকসজ্জা, ঢাকি, পুরোহিত ঠিক করা, মন্ডবের সাজ সজ্জাসহ পূজার সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখন মন্ডপ সাজানো ও গেইট নির্মাণের কাজ চলছে মহা ধুমধামে। পূজার ৫ দিনই বিভিন্ন মন্ডপে মন্ডপে দেবী বন্দনার পাশাপাশি ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। আগামী ১৯ অক্টোবর পঞ্চমী তিথি মধ্যে দিয়ে থেকে পূজা শুরু হবে। চলবে ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমী পর্যন্ত।
পঞ্চগড়ে এ বছর দুর্গা পূজার সংখ্যা বেড়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর ১০টি মন্ডপ বেড়েছে। এ বছর জেলার পাঁচ উপজেলার ৩০২টি মন্ডপেু পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পঞ্চগড়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । এবার দেবীগঞ্জে ১১৮টি, বোদায় ৯৫টি, আটোয়ারীতে ৩০টি, পঞ্চগড় সদরে ৫০টি এবং তেতুলিয়ায় ৯টি পুজা মন্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নিয়েছে পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি মন্ডপেই চলছে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ। জেলার ঐতিহ্যবাহী সমিতির ডাঙা দূর্গা মন্দিরে প্রতিমা তৈরী করছেন মৃৎশিল্পী প্রসেসিৎ রায়।
তিনি জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর প্রতিমা তৈরীতে বাজেট বেশি, তিনি ৭টি মন্ডবে প্রতিমা তৈরী করছেন। তিনি আশা করছেন যথাসময়েই প্রতিমা তৈরীর কাজ সম্পন্ন হবে।
বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ পঞ্চগড় জেলার সভাপতি জীবধন বর্মন বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি পুজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ সার্বক্ষণিক পুজার তদারকিতে থাকবেন। জেলায় এ বছর পুজার সংখ্যা বেড়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমান সরকারের উপর আমাদের যেমন আস্থা আছে, তেমনি শঙ্কাও রয়েছে! কারন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। এজন্য আমরা কিছুটা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছি, যদিও প্রশাসন আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা পূজার প্রস্তুতি সভা করেছি। নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। এছাড়াও আমরা পূজা উদযাপন বিষয়ে গৃহীত সরকারি সিদ্ধান্ত সমূহ পূজা কমিটিকে জানিয়ে দিয়েছি। দশমির দিন সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে।
পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা বলেন , আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা পূজার নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ও উৎসব মুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি।