প্রচন্ড গরমে লোডশেডিং বিড়ম্বনায় শেরপুরের মানুষ
শেরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৬:০১ পিএম আপডেট: ০৫.০৯.২০২৩ ৬:০৩ পিএম

প্রচন্ড গরমের মধ্যে আবার ও শুরু হয়েছে লোডশেডিংয়ের বিড়ম্বনা। ঘন ঘন লোডশেডিং বিড়ম্বনায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শেরপুর জেলা ও উত্তর গারো পাহাড়বাসী। দুপুর, সন্ধ্যা কিংবা গভীর রাতে প্রচন্ড গরমের মধ্যে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে পড়ে দুর্বিষহ জনজীবন। 

একদিকে গরম, অন্যদিক লোডশেডিংয়ে সীমাহীন কষ্টে দিনাতিপাত করছেন শেরপুর গোটা জেলা বিশেষ করে ( উত্তর ) গারো পাহাহাড় ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ। লোডশেডিং চলছে পিডিপি ও পল্লী বিদ্যুতের উভয় লাইনেই। চলমান ভাদ্র মাসের প্রচন্ড গরমে অস্থির হয়ে উঠেছে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ। 

ঘরের মধ্যেও যেন গরমে দম বন্ধ হয়ে আসছে। তীব্র গরম পেরিয়ে কর্মজীবীরা কর্মস্থল থেকে বাড়িতে ফিরে স্বস্তি খুঁজলেও বিদ্যুতের লুকোচুরির কারণে গরমে যেন কুপোকাত হয়ে পড়ছে। দিন রাত জুড়ে বিদ্যুৎ একবার গেলে আর ঘন্টার নিচে আসছেনা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চাকুজীবী দৈনিক জবাবদিহিকে জানান, কদিন আগে বৃষ্টি হলেও আবারও ব্যপক গরম পড়া শুরু করেছে। এর মধ্যে দিন রাত জুড়ে কয়েক দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। সকাল ৯টায় অফিসে যেতে হয়। বাসায় ফিরে আসি রাতে। রাতে দু’চার বার বিদ্যুৎ যাবেই। গরমে অস্থির হয়ে উঠি। প্রচন্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকা দায় হয়ে পড়েছে। অস্থির গরমে ফ্যান চালিয়েও ঘরে থাকা যায় না। এর মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকলে অস্থির গরমে মনে হয় আজাব যেন শুরু হলো। 

অটো চালক ঝিনাইগাতী উপজেলার বন্দভাট পাড়া গ্রামের রুস্তম আলী জবাবদিহিকে জানান, বাইরে সূর্যের অনেক তাপ। রোদে সারা শরীর পুড়ে যায়। ভোর থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত এবং বিকেলে ৫টার পর থেকে গরম কিছুটা কম থাকে। সকাল ১০টার পর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাইরে প্রচন্ড গরম থাকে। গরমে মনে হয়, জীবন বের হয়ে যাচ্ছে। শরীরে ঘামের পানি পড়ে দরদর করে। গাড়ি চালাতে অনেক কষ্ট হয়। দুপুরে খাবার সময় বাড়িতে গিয়ে দেখি কারেন্ট নেই! একবার গেলে আর আসার নাম নেই। কারেন্ট চলে গেলে বাচ্চা-কাচ্চা ঘেমে একাকার হয়ে যায়। 

গান্দিগাঁও গ্রামের মিজানুর রহমান মিজান জবাবদিহিকে জানান, বর্তমানে এতো গরম যেন গায়ে আগুন লেগে যাচ্ছে। গরমের সাথে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই গরমে বাইরে যেমন বের হওয়া যাচ্ছে না। তেমনি ঘরেও অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের অসুস্থ গৃহিনী মিসেস হিরা সাত্তার জানান, বর্তমানে যে গরম পড়া ধরেছে, তা সহ্য করতে পারছি না। দিনে রাতে বর্তমানে ৪/৫বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, গেলে ঘন্টার নিচে আসার নাম নেই। বাইরে ও বাতাস নেই, যে বাতাসে গিয়ে বসে থাকবো। গরমে জীবন বের হয়ে আসে। কোথাও স্বস্তি নেই। ঝিনাইগাতী বিদ্যুৎ

বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী জবাবদিহিকে বলেন, লোডশেডিং চলছে সীমিত আকরে। এ ব্যাপারে আমরা কিছু করতে পারছিনা। অথ্যাৎ যতটুকু চাহিদা তারমধ্যে সীমিত আকারে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। 

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ফারুক আল মাসুদ দৈনিক জবাবদিহিকে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করে লোডশেডিং কমানো যায় কিনা তা চেষ্টা করা হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  শেরপুর  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft