প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৩, ১০:৪৬ এএম

বিচারক জীবনের ইতি টানলেন দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এ উপলক্ষে রেওয়াজ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের ১ নম্বর বিচারকক্ষে তাঁকে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেছে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।
যদিও ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি অবসরে যাবেন। তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বোচ্চ আদালতে শরৎকালীন অবকাশ (ছুটি) শুরু হওয়ায় আজই তিনি বিচারিক কর্ম থেকে অবসর নিলেন।
বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি পদে শপথের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি টানা ২০ মাস বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর কর্মকালে মামলাজট নিরসনে সাফল্য থাকলেও যুদ্ধাপরাধী দল জায়ামাতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলসহ রাজনীতি এবং ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও অনিয়মসংশ্লিষ্ট অনেক চাঞ্চল্যকর মামলা অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তথ্যানুযায়ী, উচ্চ ও অধস্তন আদালতে তাদের দায়ের করা সাড়ে ছয় হাজার মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে আপিল বিভাগে বিচারাধীন প্রায় আড়াইশ মামলা।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে করা কোনো আপিল এ সময়ে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।
জানা গেছে, এ ধরনের প্রায় ৪০টি আপিল এখন বিচারাধীন। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিচার বিভাগে গতিশীলতা আনতে জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সমন্বয়ে বেঞ্চ পুনর্গঠন, সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পুরোনো মামলা নিষ্পত্তিতে বিভিন্ন সময়ে বিশেষ বেঞ্চ গঠনসহ বিচারকদের পূর্ণ কর্মঘণ্টা কাজে ব্যয় করার নির্দেশনা দিয়ে বেশ কিছু আদেশ জারি করেন।
অধস্তন আদালতে বিভাগওয়ারি মামলাজট তদারকি ও পর্যালোচনাসহ মামলা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হাইকোর্টের আট বিচারপতির নেতৃত্বে পৃথক কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়।
বছরব্যাপী এসব কমিটি নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করে। প্রধান বিচারপতি দেশের অধস্তন আদালতগুলো পরিদর্শন করার পাশাপাশি সেখানকার সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন; বিচারক ও আইনজীবীদের মামলাজট কমাতে তাগিদ দেন। এসব তৎপরতা সার্বিকভাবে মামলাজট কমাতে সহায়ক হয়েছে।