স্ত্রীকে খুন করে হাঁস রান্না করে খেয়েছেন, অতঃপর...
প্রকাশ: শনিবার, ৫ আগস্ট, ২০২৩, ৯:১১ পিএম

পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে হত্যা করে সেফটি ট্যাংকিতে লুকিয়ে রেখে নিজেই চার দিন পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্বামী আলী হোসেন।
এরপর ঘটনার সাত দিন পর শনিবার (৫ আগস্ট) বিকেলে পিরোজপুর থেকে নিহত ফিরোজা বেগমের আগের ঘরের মেয়ে পূর্ণিমা সদরের দেওয়ানবাটি গ্রামে নানা বাড়ি আসেন মায়ের খোঁজ নিতে।
মেয়ে পূর্ণিমা ঘরে ঢুকেই মরদেহের দুর্গন্ধ পেলে হঠাৎ আলী হোসেনকে এমন দুর্গন্ধের কারণ জিজ্ঞাসা করলে আলী পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।
এরপর পুলিশ এসে তার স্বীকারোক্তি মতে নিজ ঘরের সেফটি ট্যাংক থেকে স্ত্রী ফিরোজা বেগমের (৩৫) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তবে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে সে ব্যাপারে পুলিশ এখনো জানাতে পারেনি।
জানা গেছে, নিহত ফিরোজা বেগমের স্বামী ১৭ বছর আগে তাকে তালাক প্রদান করে। এরপর বাগেরহাট সদরের দেওয়ানবাটি গ্রামে মায়ের বাড়িতে এক কন্যা নিয়ে বসবাস করতেন। দীর্ঘ দিনপর শহরের নাগের বাজার এলাকার আজিজ মোল্লার ছেলে আলী হোসেনের সঙ্গে মাত্র দুই দিনের পরিচয়ে দেড় বছর আগে ফিরোজার সঙ্গে বিয়ে হয়।
এলাকাবাসী ও নিহতের সন্তান জানান, বিয়ের পরপরই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত স্ত্রী ফিরোজার সঙ্গে। মাঝে মধ্যে তাদের সঙ্গে বেশ সুসম্পর্কও দেখা যেত। ফিরোজা স্বামী আলী হোসেনকে মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনও কিনে দেন। এভাবে দেড় বছর দুজনে সংসার করে আসছিল।
গত ২৯ জুলাই ফিরোজা বাজার থেকে নিখোঁজ হয়েছে বলে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আলী হোসেন। এ সময় আত্মীয় স্বজনদের ফিরোজা নিখোঁজের বিষয়টিও জানান আলী। মায়ের নিখোঁজের খবর পেয়ে ফিরোজার আগের ঘরের মেয়ে পূর্ণিমা তার স্বামীকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে আসে শনিবার বিকেলে।
এসময় ঘরে ঢুকেই দুর্গন্ধ পেলে পূর্ণিমা আলীকে এমন দুর্গন্ধের কারণ জিজ্ঞাসা করলে আলী দৌড়ে পালানোর সময় এলাকাবাসী তাকে ধরে পুলিশে খবর দেয়। এরপর সদর থানা পুলিশ এসে আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘরের সেফটি ট্যাংকির মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে বলে নিজেই স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ দেখিয়ে দেয়।
এরপর পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পারিবারিক কলহে হত্যার চার দিন পর থানায় জিডি করেন আলী। হত্যাকাণ্ডের পর আলী স্ত্রীর বাড়িতেই থাকতেন। নিজে নিজেই হাস রান্না করে খেয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করেন। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান জানিয়েছেন।