প্রকাশ: শনিবার, ৫ আগস্ট, ২০২৩, ১:৪২ পিএম আপডেট: ০৫.০৮.২০২৩ ১:৪৩ পিএম

সম্প্রতি সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২৪ জনসহ ৩৪ শিক্ষার্থী পুলিশের হাতে আটক হয়।
পরে পুলিশ তাদের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করেছে এমন অভিযোগে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে ও পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। দু’দিন পরই তারা জামিনে মুক্তি পায়।
যেসব অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি একাডেমিশিয়ান ও পেশাজীবীরা।
গতকাল শুক্রবার (৪ আগস্ট) ৩৪ জন শিক্ষার্থী, একাডেমিশিয়ান ও পেশাজীবীদের স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা ‘পুলিশি হেনস্তার’ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৩৪ শিক্ষার্থীর অসাংবিধানিক গ্রেপ্তারের বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ২৪ জন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র এবং তারা সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ছুটি কাটাচ্ছিলেন যখন তাদের হেনস্তা করা হয়। পুলিশের দাবি, তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র করছিল।
প্রমাণ হিসেবে বলা হয়, এ ছাত্ররা রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত। যদিও ভুক্তভোগীদের অভিভাবকরা দাবি করেছেন যে তারা ওই ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল না। কোনো একটি বৈধ ছাত্র সংগঠন সদস্যদের গ্রেপ্তার করা বাংলাদেশের সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ছাত্রদের জামিন দেওয়ায় সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেলেও আমরা বিশ্বাস করি যে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করা, তাদের এবং তাদের পরিবারকে যে মানসিক, শারীরিক, অর্থনৈতিক, একাডেমিক ও অন্যান্য দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করা না হলে এই সামান্য জামিন দেওয়া পর্যাপ্ত না।
এতে আরও বলা হয়, আমরা বাংলাদেশের জনগণের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশ ও সংগঠনের অধিকারের ওপর দৃঢ়ভাবে গুরুত্বারোপ করছি। আমরা বলছি না যে পুলিশ যে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে তা সত্য, তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে সেই অভিযোগটি সত্য হলেও সেই ৩৪ জন কোনো অংশেই কম ভুক্তভোগী হয়ে যান না।
নাগরিক স্বাধীনতা হরণকারী এ ন্যক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানানোর পূর্বে ভুক্তভোগীরা প্রকৃতপক্ষে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিনা তা যাচাই করার কোনো প্রচেষ্টাকেও আমরা ভুক্তভোগীদের দোষ তালাশের সনাতন উদাহরণ হিসেবে নিন্দা জানায় তারা।