
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রিয়াদের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের পর চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব-১।
পরকীয়ার জেরে তাকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকান্ডের মূল আসামীকে গ্রেপ্তারের পর রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে র্যাব-১ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত রিয়াদ হোসেন (২১) দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থানার পশ্চিম নারায়নপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার মিরপুর প্রাইম ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন।
অপর দিকে গ্রেপ্তারকৃত হলেন, একই গ্রামের ইন্তাজুল ইসলামের ছেলে মোঃ নাঈম হোসেন (৩৪)। তিনি চাঞ্চল্যকর বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামী। তারা দুজনে দূর সম্পর্কের চাচা-ভাতিজা।
র্যাব-১ এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হত্যাকান্ডের মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল রোববার দুপুরে র্যাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে র্যাব-১।
এসময় র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াদকে হত্যাকান্ডের বিষয়টি স্বীকার করে আসামী নাঈম জানায়, রিয়াদ তার দূর সম্পর্কের চাচা।
গত ২০১৯-২০২১ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন নাঈম। সে তার স্ত্রীকে দেখাশোনার সুবিধার্থে চাচীর সঙ্গে রিয়াদের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠার সন্দেহ করে আসামী নাঈম। এ সন্দেহের জেরে গত ২০২১ সালের জুন মাসে তিনি দেশে ফিরেন।
পরে প্রতিহিংসায় রিয়াদকে হত্যার জন্য মনস্থির করে নাঈম। পরে তিনি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার জন্য উক্ত এলাকার পলাশ নামে এক ব্যক্তির সাথে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করে।
এরপর গত ২০২২ সালের জুন মাসে নাঈম তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে।
গত ২০২৩ সালের ১৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আসামী নাঈম ও পলাশ দুজনে যোগাযোগ করে বিয়াদকে উপজেলার মৌচাক এলাকায় ডেকে নেয়।
তারা চা-নাস্তা খাওয়ানোর পর কিছু সময় তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাঈম তার ভাড়া নেয়া পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়।
ওই সময় পলাশ তাকে হত্যার অনিহা প্রকাশ করলে নাঈম কৌশলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে এবং সকল ডাটা ডিলেট করে। নাঈম ও রিয়াদ পূর্বের ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটি করে। রাত পৌণে ২টার দিকে রিয়াদকে নিয়ে তারা উপজেলার রতনপুর ধোপাচালা এলাকার বনের ভিতরে চলে যায়।
এসময় আসামী নাঈম নিজেই তার পরিহিত টি-শার্ট খুলে রিয়াদের গলায় ফাঁস লাগিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। তাকে হত্যারপর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এর তিনদিন পর গত ১৬ জুন রাত সাড়ে ৭টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় পরের ১৭ জুন তার পরিবার কালিয়াকৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
এর আগে গত ১২ জুন থেকে নিখোঁজ ছিলেন রিয়াদ। তার নিখোঁজের পর জিএমপি, সদর থানায় একটি জিডি করেন পরিবার।
এদিকে উক্ত নৃশংস হত্যাকান্ডটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ হত্যাকান্ডের প্রকৃত ঘটনা রহস্য উম্মোচনের জন্য র্যাব-১ তদন্ত শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিয়াকৈর থানার মাদনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি নাঈম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী শফিপুর আন্দারমানিক পূর্বপাড়া এলাকার একটি ড্রেন থেকে রিয়াদের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) মোঃ পারভেজ রানার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে র্যাব-১।