ভোলায় প্রতিবন্ধী ৩ সন্তান নিয়ে দিশেহারা জেলে পরিবার
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৮ জুন, ২০২৩, ২:১১ পিএম

ভোলার ইলিশায় প্রতিবন্ধী ৩ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন একটি জেলে পরিবার। উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন। 

জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার ২নং ইলিশা ইউনিয়নের ভাংতির খাল নামক গ্রামের আবুল কালাম-ইয়ানুর বেগম দম্পতির ঘরে এক এক করে চার ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। চার সন্তানের মধ্যে শাকিল (১৬), শরিফ (১৪), হাছান (৮) নামে এই তিন ছেলে ৮বছর বয়স থেকে এক এক করে প্রতিবন্ধী হয়ে যান। 

নদীতে জাল ফেলে সংসারের ৬ জনের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে অসহায় বাবা। প্রতিবন্ধী ছেলেদের চিকিৎসা তো দুরের কথা নদীতে জাল ফেলে পরিবারে দুই বেলা দু-মুঠো ভাত দেওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিবন্ধীদের বাবা আবু কালামের। আবুল কালাম-ইয়ানুর বেগম দম্পতি জানান, সুখেই চলছিলো তাদের সংসার ছেলেদের ৮ বছর বয়স হলেই এই অজানা রোজ দেখা দেয়। 

এক এক করে তিনটি ছেলেই এখন প্রতিবন্ধী। তিন প্রতিবন্ধী ছেলেকে ডাক্তার-কবিরাজ দেখিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা খরচ করলেও ছেলেদের সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরাতে পারেনি এই দম্পতি। তারা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ কতৃক একটি জেলে কার্ড রয়েছে যার মাধ্যমে চাল পায়  ও দুই ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড রয়েছে। 

ছোট ছেলের প্রতিবন্ধী কার্ডের বিষয়ে উপজেলা এক কর্মকর্তা এসেছে এবং কার্ড করে দেয়ার কথা বলে গেছে। তারা আরো জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য নির্বাচনের আগে বলেছেন নির্বাচনের পরে তাদের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করবেন কিন্তু নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও গত রমজান ঈদে তাদের বাড়িতে গেছেন এবং ২০০ টাকা সহযোগিতা করেছেন। 

আবু কালাম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে তিনবেলা ভাত খেতেই কস্ট হয়, কিভাবে ওদের চিকিৎসা করাবো। যদি কেউ ওদের চিকিৎসার খরচ দিয়ে চিকিৎসা করাতো তাহলে আমার ছেলেদের সুস্থ করে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারতাম।

স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানান, জন্মের পর সুস্থ ভাবে চলাফেরা করলেও ৮ বছর বয়স হলেই এক অজানা রোগে একে এক তিন ছেলে প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। পরিবারটি একেবারেই অক্ষম, খুব কষ্টে তাদের দিন যায়। আবু কালাম নদীতে জাল বাইয়া সংসার চালায়। শত কষ্ট করেও খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করছে তারা। সরকার এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ালে তাদের জন্য খুবই ভালো হয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটন বলেন, প্রতিবন্ধীদের বাবা আবু কালামের নামে একটি জেলে কার্ড রয়েছে। তার তিন প্রতিবন্ধী ছেলের মধ্যে দুই ছেলে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে এবং ছোট ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড দ্রুত হওয়ার বিষয়ে আমি যোগাযোগ করেছি। তবে ওদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে আরও কিছু সুবিধা পেলে ছেলেগুলো সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতো। তিনি আরো বলেন, ওদের চিকিৎসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও আমার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে সহযোগিতা করবো।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft