ভিনদেশি মিষ্টি আলু চাষে সফল হাসান আলী, ১০ লক্ষ টাকা লাভের আশা
প্রকাশ: বুধবার, ১০ মে, ২০২৩, ৩:৫৬ পিএম

ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার সীমান্ত ঘেষা কাশিপুর ইউনিয়নের নাগর নদীতে নদী ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলিন হওয়া জমি হঠাৎ গত তিন/ চার বছর পূর্বে জেগে উঠে বালু চর। কোন ধরনের ফসলের আবাদ হবে না জেনে এলাকার মানুষজন গরু-ছাগল চড়াতো। 

জেগে উঠা চরের পতিত বালু জমিতে রানীশংকৈল কৃষি অফিসের সু-পরামর্শে সরকারের কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও উচ্চ ফলনশীল মিষ্টি আলু চাষে ভাগ্য ফিরেছে কৃষক হাসান আলীর।

কৃষক হাসান আলী বলেন, শুরুর গল্পটা বেশ ভাল ছিল না। পারা প্রতিবেশিদের কটু কথা। পরিবারের লোকজনের অনিহা সত্যেও বালু চরে মিস্টি আলুর চাষ শুরু করি। এক সময় আমার ১২ বিঘা ফসলি জমি বিলিন হয়ে যায়। 

গত ৩/৪ বছর পূর্বে জেগে উঠে প্রায় ৬বিঘা চর। সেই জেগে উঠা চরের বালু জমিতে কোন ধরনের ফসলে আবাদ না হওয়ায় এলাকার মানুষজন গরু, ছাগল চড়াতো। আর এখন মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন দেখে এলাকার এ সময়ের কটু কথা বলা কৃষকেরাই আগামী বছরে রোপনের আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

রাণীশংকৈল কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ সনঞ্জয় দেবনাথ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাকারের নির্দেশে প্রতি ইঞ্চি জমি ব্যবহারের প্রত্যয়ে আমরা রানীশংকৈল কৃষি বিভাগ জেগে উঠা চর এলাকা পরিদর্শন করে কৃষক হাসান আলীকে সরকারী সহযোগীতায় কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্বল্প খরচে ও কম পরিচর্যায় বেশি ফলনের মুড়াসাকি ও ওয়াকিনামা দুইটি জাতের মিস্টি আলু চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। জমি তৈরি থেকে সব ধরনের সহযোগীতা করি।

প্রথম বারের মত বালু চরে মিষ্টি আলু চাষ বৈরি আবহাওয়ার কারণে মিষ্টি আলুর গাছ ঝিমিয়ে গেলে বেশ বিপাকে পরে যান কৃষক হাসান। কৃষি অফিসের পরামর্শে ফসলের সমস্যা সমাধান হয় এবং ফলন ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষক হাসানের মুখে। 

তার খেতের এক একটি আলুর ওজন আড়াই থেকে তিন কেজি পর্যন্ত এবং একটি গাছে প্রায় ৪/৫ কেজি আলু দেখা গেছে। যা বর্তমানে তার জমি থেকেই কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দাম বলছেন স্বানীয় পাইকাররা। বিঘা প্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ মণ পর্যন্ত ফলন আশা করছেন, যা ৬বিঘা জমিতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বিক্রির ধারনা কৃষক হাসান আলীর।

স্থানীয় কৃষকরা যিনারা তাকে এক সময় কটু কথা বলেছে আজ তারা কৃষক হাসান আলীর সফলতা দেখে তাকে সাধুবাদ জানান।

মিষ্টি আলু চাষের উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস। প্রতি শতকে ৬ শত থেকে সাড়ে ছয়শ আলুর কাটিং ব্যবহার করা হয়। এ চাষে তেমন রোগবালাই নেই। তবে লেদা পোকার আক্রমণ হয়, যা অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহারে চলে যায়।

আগাছা পরিষ্কার, সুষম সারের ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সেচে ফলন ভাল হয়। রোপণের ১৫০ থেকে ১৬০ দিন পর মিষ্টি আলুর ফলন ঘরে তোলা যায়।

পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও উচ্চ ফলনশীল অল্প খরচে ও কম পরিচর্যায় বেশি ফলন এবং অধিক লাভ হওয়ায় মিষ্টি আলু চাষে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হচ্ছেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft