
ফরিদপুরের নগরকান্দা ও ভাঙ্গা উপজেলার দুইটি পৃথক অভিযানে স্ত্রী হত্যাকারী স্বামী আটক ও বিকাশের ৫ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার বেলা ১১টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে সংবাদ সংম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোহম্মদ ইমদাদ হুসাইন জানান, গত ২৩ এপ্রিল নগরকান্দা থানা এলাকার মানিকনগর ব্রীজের পাশে মনিরা আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়।
শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মনিরা কে হত্যার ঘটনায় নিহতের ফুপু ফুলজান খাতুন মৃতের স্বামী সাহেব আলী ও তার প্রথম স্ত্রী জোসনা বেগম সহ অজ্ঞাতনামা আসামী করে নগরকান্দা থানায় মামলা দায়ের করে।
২৬ এপ্রিল জোসনা বেগমকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। নিহতের স্বামীকে শুক্রবার(৫ মে) ঢাকা জেলার দোহান থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটক সাহেব আলী পারিবারিক কলহের কারণে তার স্ত্রীকে চাকু দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে বলে জানান এই কর্র্মকর্তা।
আসামীর দেয়া তথ্য মতে,হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এদিকে কৌশলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কার্নিকান্দা গ্রামের ইব্রাহিমের বাড়ী থেকে পাঁচ প্রতারককে ৬টি মোবাইল ও বিভিন্ন কোম্পানীর ১৮টি সিম সহ তাদের গ্রেপ্তার করে ভাংগা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে ওই কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন সময় এই চক্রের সদস্যরা সুকৌশলে সাধারণ মানুষ কে কল করে বয়স্ক ভাতা, শিক্ষার উপবৃত্তি, ঈদ সহ বিভিন্ন অফার, বিকাশ ও নগদের একাউন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন অজুহাতে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকে।
ভাংগা থানা এলাকার গোয়েন্দা সদস্যদের একটি দল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তাদেরকে গ্রেপ্তার ভাঙ্গা উপজেলার কার্নিকান্দা গ্রামের ইব্রাহিমের বাড়ী থেকে তাদেকে আটক করে।
এসময় তাদের কাছ থেকে এই ধরণের প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৬টি মোবাইল ফোন, ১৮টি সিম কাড, অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন এ্যাপস উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলো-মো, ইব্রাহিম আকন, ফাইজুর মাতুব্বর, শাহিনুর মাতুব্বর, অনিক শিকদার, লিটু মাতু্ব্বর।
আটক সকলে ওই এলাকার বাসিন্দা বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সকল আসামীদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।