
নওগাঁর মহাদেবপুরে কোনোক্রমেই সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল। একের পর এক ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অবৈধ ও লক্কর-ঝক্কর যানবাহন এর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে মহাদেবপুর-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের হাট-চকগৌরী বাজারের পশ্চিমে বেলঘরিয়া নামক স্থানে যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপের চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করেছে পুলিশ। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ নিয়ে এলাকায় চলছে শোকের মাতন। ভুক্তভোগী পরিবারে কাঁন্না থামাতে পারছে না কেউই।
নিহতরা হলেন-উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের সমসের আলী মন্ডলের ছেলে পিকআপের চালক হারুন অর রশিদ মন্ডল বাঘা (২৬), বগুড়া জেলার আদমদীঘি এলাকার মুজিবুর রহমান (৬০), মহাদেবপুর উপজেলা সদরের কাচারিপাড়া এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে আফাজ উদ্দিন (৪৮) ও একই এলাকার আবু বকরের ছেলে বকুল হোসেন (১৮)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতি পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস নওগাঁ থেকে মহাদেবপুর আসার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের (বগুড়া-ন-১১-১৫৫৪) সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপটি দুমড়ে মুচড়ে যায় ও বাসের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এতে পিকআপ ভ্যানের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত এবং ১৫ জনের বেশি আহত হন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদেরকে উদ্ধার করে নওগাঁ আধুনিক জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে মুজিবুর রহমানের মৃত্যু হয়। আহত ১৭ জনকে এই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড (স্থানান্তর) করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আফাজ ও বকুলের মৃত্যু হয়।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, এ ঘটনায় থানায় মামালা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপ ও বাস জব্দ করছে পুলিশ।
সরেজমিনে উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যদের সামনে দিয়ে অবাধে চলাচল করছে বালুবাহী ডাম্পার, অবৈধ ট্রাক্টর ও ট্রাক। কিন্তু এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে কোন আইন প্রয়োগ না করে শুধু মোটরসাইকেল ধরপাকড় করছে তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আবারও অবৈধ ট্রাক্টর, ভুটভুটি, ট্রলি ও ১০ চাকার ডাম্পার ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল বেড়েছে। ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক ও মহাসড়ক। এদের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে অনেকে। প্রশাসনের নাকের ডগায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই জেলাজুড়ে ফিটনেসবিহীন যাত্রীবাহী বাস পরিচালনা করছেন মালিকরা। রহস্যজনক কারণে কোনোই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না সংশ্লিষ্টরা।
জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসান জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
জ/আ