
শেরপুরে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। বাড়ছে ব্যবসায়ী সহ ক্রেতাদের ব্যস্ততা। সব বয়সী মানুষের মধ্যে এখন ঈদ বাজার নিয়েই যত ভাবনা।
ঈদে কার না মনে চায় নতুন জামা-কাপড়। সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই চায় পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটাতে। কিন্তু সাধ আর সাধ্যের মধ্যে যদি থাকে বিস্তর তফাত।
তবেই যত বিপত্তি। তাই সাধ খাকলেও সাধ্যে কুলায় না অনেকেরই পছন্দের জামা-কাপড় কেনার। আবার যাদের সাধ্য আছে, তারা কেনাকাটায় এখন অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কেউবা ফেল-ফেল করে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন।
তার পরও ঈদকে সামনে রেখে নামি-দামি বিপনি বিতান, মার্কেটগুলোতে নতুন নতুন দেশী-বিদেশী হরেক রকম জামা কাপড়ে এখন ঠাসা।
ব্যবসায়ীরা জানান, ২০ রমজানের পর থেকেই তাদের ব্যবসা বেশ জমে উঠছে। বর্তমানে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। বিভিন্ন মার্কেটে এখন চলছে জমজমাট বেচাকেনা।
শিশু, পুরুষ ও মহিলাদের পছন্দের কাপড়চোপড়, প্রসাধনী সামগ্রী এবং জুতার দোকানগুলোতে এখন বেশ জমজমাট ভীর পরিলক্ষিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভদ্র মহিলা ক্রেতা জানান, প্রায় ১০-১২ হাজার টাকার কাপড় ক্রয় করেছেন। মূল্য পূর্বের তুলনায় অনেক বেশী।
মার্কেটগুলোতে টাঙ্গাইলের সূতি, জামদানি, জর্জেট এবং সিলকের শাড়ির চাহিদা এবার অনেক বেশী বলে জানান সাগরিকা বস্ত্রালয়ের মালিক শ্রী. কৃষ্ণ ঝিনাইগাতীর বিক্রেতা আ: মতিন রাজা, ঝিলন সেক, মধ্যবাজারের তাহমিনা ফ্যাশন হাউজের মালিক আশ্রাফুল আলম ও রাজু ফ্যাশনের পরিচালক আরিফ জানান, ধনী-মধ্যবিত্ত পরিবার-পরিজন কেনাকাটায় ব্যস্ত।
তবে দরিদ্র শ্রেনীর মধ্যেবাজারের এখনো বেচাকেনা জমে উঠেনি। এরা সাধারণত. লেট-কামার। চাঁদ রাতে অথবা ১-২ দিন আগে কেনাকাটা করে। অপরদিকে স্বল্প বেতনভোগী ও খেটে খাওয়া মানুষগুলোকেও আপাতত. কেনাকাটায় খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
তবে মার্কেটগুলোতে এখন দেখা যাচ্ছে রীতিমত তাক লাগানো রকমারী পোশাকের সমারোহ। লাল নিল রঙিন পোশাকে ঠাসা দোকনগুলো। অবশ্য পনের রোজার পর থেকেই ধীর গতীতে জমছে ঝিনাইগাতীর ঈদ বাজার। শপিংমলগুলোয় সকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চলছে বেচা-কেনা।
ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে যে যার সাধ্য অনুযায়ী, পোশাক আর প্রসাধণী সামগ্রী কিনছেন। ঈদ মার্কেটে শাড়ি-থ্রি-পিসের দোকানগুলোতে তরুণীদের ও মহিলা ক্রেতাদের উপচেপড়া ভির লক্ষ্য করার মত। তবে দেশী থ্রি-পিসের চেয়ে ভারতীয় বিভিন্ন থ্রি-পিস বাজার দখল করে নিয়েছে।
এদিকে ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের ভির জমে উঠেছে ঝিনাইগাতীর ফুটপাতগুলোয়। বলতে গেলে ফুটপাতেই এখন মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্রদের ঈদের প্রধান বাজার।
বিশেষ ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উন্নতমানের সার্ট। বেচাকেনাও হচ্ছে মুটামুটি। তাছাড়া মধ্যবাজারের বিপণি বিতানগুলোয় ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটা চলছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সবগুলো মার্কেটের বিপণি বিতানগুলোতে ক্রেতাদের পদচারণা বেড়েছে। আর ক্রেতাদের পদচারণা লক্ষ্য করে মার্কেট ও বিপণি বিতানগুলোতে ১৫ রোজার পর থেকে নানা সাজে আকর্ষনীয় করে তুলতে তৎপর হয়ে উঠেছে দোকানীরা।
মার্কেটগুলোর কাপড়ের দোকানগুলোতে নানা রকমের থান কাপড়, শাড়ি, থ্রিপিস সহ গার্মেন্টসের বাহারি পোশাক বিক্রয় হচ্ছে বেশী বলে জানান-সাগরিকা বস্ত্রালয়ের মালিক শ্রী কৃষ্ণ।
পাশাপাশি জুতার দোকান, প্রসাধনী সামগ্রীর দোকান, শো-পিস এর দোকানগুলোতেও ক্রেতাভির বেশী।
ঈদ বাজারে ক্রেতা সরোয়ারদি দুদু মন্ডল বলেন, রোজার ঈদের বাজার করতে মার্কেটগুলোতে প্রচন্ড ভিড়ের পাশাপাশি পোশাকের দাম ও হাঁকা হচ্ছে অনেক বেশী।
তাই খুব টেনশনে আছি। এখনো অর্ধেক কেনাকাটাও করতে পারেননি তাই। দাম বেশী হওয়ায় এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন বলে জানান তিনি।
’ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুল আলম ভূঁইয়া বলেন, আইনশৃংখলা রক্ষায় পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ফারুক আল মাসুদ বলেন, ঈদ উপলক্ষে আইন শৃংখলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যবসায়ীগণ অতিরিক্ত দামে যাতে কোন পণ্য বিক্রি না করতে পারেন, সে ব্যাপারে স্বজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।’