জমি সহ পাকা ঘর পেয়ে স্বাবলম্বী দাউদকান্দির ভূমিহীনরা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৩, ৪:৩৪ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের জমি সহ ঘর পেয়ে স্বাবলম্বী কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ভূমিহীন ফাতেমা, শিরিনা, লিপি আক্তার, প্রমিলা রানি, সোহাগী ও যায়েদা বেগমরা। অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়ে ভাঙা ঘরে থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করতেন তারা। কিন্তু তারা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ি পেয়ে স্থায়ী ঠিকানা পাওয়ায় তদের জীবনটা বদলে গেছে। নিজের একটি পাকা-পরিচ্ছন্ন ঘরে থাকার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাদের নিরাপদ ও মজবুত স্থায়ী ঘর পেয়ে।

সরেজমিনে এসব ঘরে বসবাস করা মানুষদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মানবেতর জীবনমান থেকে মুক্তি পেয়ে এখন তারা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবনযাবন করছেন। বর্তমানে সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগে পাকাবাড়ী পাওয়া সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো অনেক খুশী।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় দাউদকান্দি উপজেলায় ৪৮৭ জন গৃহহীন ও ভূমিহীনের মধ্যে বিনামূল্যে জমি ও রঙিন টিন দিয়ে আধাপাকা ঘর করে দিচ্ছে সরকার। এরমধ্যে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর, দক্ষিণ, মোহাম্মদপুর, গৌরীপুর, দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়ন ও পৌর সদরে ২৫০ জনকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ঘরগুলো নির্মাণাধীন। 

উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকার ভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এখন অনেক ভাল আছেন। কারণ, এখানে শুধু তারা বাড়ি উপহার পাননি। পেয়েছেন সবজি চাষ করার জন্য জমি। এছাড়া বাড়িতে বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ খাবার পানি, পাকা টয়লেট, যা তাদের সপ্ন ছিল, আজ প্রধানমন্ত্রী তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নন করেছে।পৌর সদরের দোনারচরে আশ্রয়ণের ঘর পেয়েছেন যায়েদা বেগম। 

তিনি জানান, আমার স্বামী মারা গেছে অনেক আগেই। আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করেছি। অন্যের বাড়ীতে এবং দর্জির কাজ করে খুপড়ি ঘরে ভাড়া থেকে ছেলে মেয়েদের বড় করেছি। আমার মাথা গোঁজার কোন ঠাই ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বাড়ি পেয়ে এখন অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। আমাদের ইউএনও স্যার আমার বাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আজ আমার একটা পাকা বাড়ি আছে। আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি। আল্লাহ যেন ইউএনও স্যারকে খুব ভালো রাখেন। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করছি আল্লাহ যেন উনাকেও সুস্থ রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ি পাওয়া প্রমিলা রানি কর্মকারের জানান, ৩০ বছর আগে আমাকে বিয়ে করে ভাড়া করা খুপড়ি ঘরে তোলেন স্বামী রঞ্জিত কর্মকার। মানুষের বাড়ীতে কাজ করে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। মেয়ের জামাইরা আসলে বসার জায়গা দিতে পারিনি। এখন অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই হওয়ায় আমি শেখের বেডির (শেখ হাসিনা) প্রতি অনেক খুশী।
 
দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামে কথা হয় ফাতেমা, শিরিনা ও লিপি আক্তারের সাথে। ঘরের সামনে খালি জায়গায়, লাল শাক, পাট শাকসহ রোপন করা বিভিন্ন সবজির পরিচর্চা করছেন। 

তারা বলেন, আমরা ছিলাম ভাসমান, শেখ হাসিনা আমাদের ঠিকানা দিয়েছেন। এখন আমাদের পুরুষ লোকেরা বাইরে কাজ করে, আর আমারা বাড়ীর খালি জায়গায় এবং ঘরের চালে সবজি লাগাই (রোপন)। এর থেকে আমরা নিজেরা খাই এবং বাজারে বিক্রি করি। শেখের বেডিরে আল্লায় হাজার বছর বাচিয়ে রাখুক এই দোয়াই করি। 

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিনুল হাসানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের মত একটি মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরাসরি সম্পৃক্ত করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রধানমন্ত্রী আমাদের এমন একটি ভালো কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন, যার কারণে আমরা কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, উন্নত মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে সুবিধাভোগীরা যেন সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে এজন্য সবসময়ই তাদের খোঁজ খবর নেয়া হয়। কেউ কোন সমস্যায় পড়লে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে আমরা তাদের সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করি। আশ্রয়ণ প্রকল্পে পুনর্বাসিত পরিবারগুলো খুব খুশি কেননা তাদের না ছিল মাথা গোঁজার ঠাঁই, না ছিল নির্দিষ্ট ঠিকানা। এখন তারা নির্দিষ্ট ঠিকানা পেয়েছে, ফলে শান্তিতে সুখের নীড়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, যাদের কিছুই ছিল না, যারা অন্যের ওঠানে থাকতো। তাদের স্থায়ী ঠিকানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর এসব সম্ভব হয়েছে কেবল বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখা হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এই জমি ও ঘর তাদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাইতো তারা চিরকৃতজ্ঞ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। আর আগামীতে তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা হবে।

জ/আ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft