প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৩, ১২:৩৪ পিএম

‘ও ভাই, কিছু নাই, সব পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে’। কয়েকদিন আগে গোডাউনে ৭৫ লাখ টাকার মাল ওঠানো হয়েছে। আমার দুই কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। গোডাউন, দোকান সব শেষ। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।’ রাজধানীর বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যক্তি এভাবেই আহাজারি করছিলেন।
সকাল সোয়া ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে পাশের ভবন এনেক্সকো টাওয়ারে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া বঙ্গবাজারের সামনের রাস্তায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনে বঙ্গবাজারে টিনশেড মার্কেটটি পুরোটা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা দোকানের মালামাল সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে আগুনের ধোঁয়ায় মালামাল সরাতে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এমন আগুন জীবনেও দেখেননি জানিয়ে বঙ্গবাজার টিনশেড মার্কেটের একটি দোকানের মালিক আব্দুল মান্নান বলেন, আমার দোকানের সব পুড়ে শেষ। আমি এমন আগুন জীবনেও দেখিনি। কীভাবে কী হয়ে গেলো! তিনি ফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন আর কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
তিনি আরো বলেন, আমার দোকান-গুদামঘর সব শেষ হয়ে গেছে। ১৫ লাখ টাকার মাল আছে। চার লাখ টাকা ক্যাশ ছিল দোকানে।
বঙ্গবাজারে ইসলামিয়া সুপার মার্কেটে ছয়টি দোকানের মালিক ব্যবসায়ী সিদ্দিক হাসান তুহিন। শুধু একটি দোকানেই ৮০ লাখ টাকার মালামাল রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আমার দোকানগুলো থেকে একটি সুতাও বের করতে পারিনি। ভোর রাতে খেয়ে ঘুমেছিলাম। খবর পেয়ে দ্রুত এসে এমন ভয়াবহ অবস্থা দেখি। ৩২ জন কর্মচারীর আমার দোকানে কাজ করে। ঈদের আগে এতো বড় বিপদ আমাদের জন্য আসলো।
ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা একজন বিজিবি সদস্য বলেন, এতো বড় আগুন কীভাবে লেগে গেলো! এমন আগুন ঢাকায় আমিও দেখিনি।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ২০ বছর আগে বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। এরপর এতো বড় আগুন আর দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে আগুন লাগলে ৬টা ১২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিটের পাশাপাশি কাজ করছে বিজিবি, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী। যোগ দিয়েছে ৩টি হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টারগুলো হাতিরঝিল থেকে পানি এনে আকাশ থেকে মারছে আগুন লাগা স্থানে।
জ/আ