
মেহেরপুরে গত দুই দিনের ভারী বর্ষণে গম ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার কারণে গমের ফলনের চরম ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
চারিদিকে ইতিমধ্যেই গম কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ঠিক এমন মূহুর্তে হঠাৎ ভারী বর্ষণ ও দমকা বাতাসে অনেক ক্ষেতের গমের গাছ ভেঙে নুইয়ে পড়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে গমের দানা চিপসে যেতে পারে।
তাছাড়া গমের রং ফ্যাকাসে হয়ে যেতে পারে। গত কয়েকদিনের ভারী ও হালকা বৃষ্টি এবং হাওয়ার কারণে গমের ফলন ও মূল্যে চরম ক্ষতির আশংকা করছেন কৃষকরা।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিকটন গম উৎপাদন হতে পারে বলে আশা করছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
কৃষি বিভাগ জানায়, গম উৎপাদনে কৃষি প্রণোদনা সহায়তা হিসেবে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ বিতরণসহ সকল ধরনের পরামর্শ দিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা।
কৃষকরা জানান, চারিদিকে ইতিমধ্যেই গম কাটা মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ঠিক এমন মূহুর্তে হঠাৎ ভারী বর্ষণ ও দমকা বাতাসে অনেক ক্ষেতের গমের গাছ ভেঙে নুইয়ে পড়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে গমের দানা চিপসে যেতে পারে। তাছাড়া গমের রং ফ্যাকাসে হয়ে যেতে পারে। এতে করে গম বিক্রিতে ব্যবসায়ীরা হয়তো বা ন্যায্য মূল্যে তাদের গম ক্রয় করবেনা। গম আবাদের শুরু থেকেই আবহাওয়া সহায়ক হওয়ায় গম চাষে কোন সমস্যা হয়নি।
এরফলে কৃষকরা গম চাষে সাফল্য আশা করেছিলেন। কৃষক নিজেও গম চাষে লাভের মুখ দেখবেন, সে বিষয়েও তারা যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের যাবতীয় পরামর্শ স্বাভাবিক ভাবেই কৃষকদের গম চাষে অনেকটাই লাভবান করে তুলবেন বলে কৃষকরা মনে করেছিলেন। আগাম আবাদকৃত অনেকেই গম কেটে ইতিমধ্যেই ঘরে তুলে লাভের মুখও দেখেছেন কিন্তু বিপাকে পড়েছেন পিছিয়ে পড়া গম চাষীরা।
সরেজমিনে মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমিতেই গম নুইয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে জমে আছে বৃষ্টির পানি। পর্যাপ্ত রোদ না হলে চাষীরা তাদের ফসলের ক্ষতির আশংকা করছে।
সদর উপজেলার শোলমারী গ্রামের গোলাম হোসেন জানান, অন্যান্য গমের তেমন ক্ষতি না হলেও বারী-৩০ জাতের গম চাষীরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন। কারণ বারী-৩০ জাতের প্রায় ক্ষেতের গমের গাছ কাচা এবং অধিকাংশই নুইয়ে পড়েছে। এতে ফলন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন গ্রামের গম চাষী আবুল হোসেন জানান, গম বপনের প্রথমদিকে সবকিছুই ঠিক ছিলো। হঠাৎ ভারী বৃষ্টি ও হাওয়ার কারণে মাঠর অধিকাংশ গম নুইয়ে পড়েছে। তাছাড়া কয়েকদিন ধরেই আকাশ মেঘলা থাকার কারণে ভেজা গম শুকাতেও সমস্যা হচ্ছে। আবহাওয়ার অবস্থা এমন থাকলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শংকর কুমার মজুমদার জানান, এ পর্যন্ত যে বর্ষণ হয়েছে তাতে করে গম ক্ষেতের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে গমের দানার ব্যাপক ক্ষতি হবে। এছাড়াও গমের কালার পরিবর্তন হতে পারে।
জ/আ