
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট আ. ক. ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ঐতিহাসিক দিন ১৯ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে গাজীপুরের জয়দেবপুরে বীর জনতা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গুলির জবাব দিয়েছিল পাল্টাগুলি ছুঁড়ে। বাঙ্গালীর আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু আগের যুদ্ধ এটি।
এটি সর্ব প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ হয়েছিল। পাকিস্তানের তেইশ বছরে অনেক আন্দোলন প্রতিরোধ হয়েছে। কিন্তু সশস্ত্রভাবে উনিশে মার্চেই সর্ব প্রথম হয়েছে। কাজেই এই দিনটি বাঙ্গালী জাতির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটা মাইল ফলক, একটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল।
গাজীপুরের বীর জনতা সেদিন যেভাবে গর্জে উঠেছিল এবং ব্রিগেডিয়ার জাহানজেপকে যে ভাবে পরাস্ত করেছিল। সেটার জন্য সারা বাংলাদেশের স্লোগান উঠেছিল। যে জয়দেবপুরের পথ ধরো বাংলাদেশ স্বাধীন করো। জয়দেবপুরের পথ ধরো সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করো। কাজেই এই দিনটি জাতীর জীবনে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
তিনি শনিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের পূর্বচান্দরা মাঠে অনুষ্ঠিত শহীদ আব্দুল খালেক ও মেজর আব্দুল সালেক বীরউত্তম স্মৃতি ফাইনাল ফুটবল ও ব্যাটমিন্টন খেলা শেষে ট্রফি এবং প্রাইজ মানির চেক বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন।
পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন আকুলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফাইনাল টুর্নামেন্টে সভাপতিত্ব করেন-এশিয়া গ্রুপের পরিচালক ও বিশিষ্ট শিল্পপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিন চৌধুরী।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন- কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন সিকদার, কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমানসহ আরো অনেকে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তুষার, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সরকার মোশারফ হোসেন জয়, সাধারণ সম্পাদক সিকদার জহিরুল ইসলাম জয়সহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ এবং অংগ্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মন্ত্রী আরো বলেন, খেলার মাঠে ভালো দর্শক থাকলে ভালো খেলাও হয়। আর খেলার মাঠে টানটান উত্তেজনার মধ্যে দুই দলের সঙ্গে তাদের পক্ষ-বিপক্ষে অবস্থান নেন দর্শকরাও। কিন্তু খেলায় দুই দলই জিতবে না। একদল হেরে গেলে আরেক দল জিতে যায়। একদল হারবে আরেক দল জিতবে, এটা নিয়ম। খেলার মাঠে এতো উত্তেজনার মধ্যে যে দল হেরে যায়, সে দল পরাজয় মেনে নেয়। শুধু সে দলই নয়, তাদের পক্ষের দর্শকরাও স্বাভাবিক ভাবে পরাজয়টা মেনে নেয়। কিন্তু আমরা যারা রাজনীতি করি, তারা পরাজিত হলে তা মেনে নিতে পারি না। আমরা রাজনীতিকরাও খেলাধুলার মতো যদি পরাজয়টা মেনে নিতে পারলে সমাজে ও রাষ্ট্রে এতো বিরোধ থাকতো না। সহজেই আমরা পরাজয়টা মেনে নিতে পারলে সমাজ তথা রাষ্ট্রের আরো উন্নয়ন হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার খেলাধুলার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশে^র কাছে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করার জন্য খেলাধুলা অন্যতম একটা মাধ্যম। এ জন্য যুবসমাজকে আরো বেশি বেশি খেলাধুলা করা দরকার। কিন্তু খেলাধুলা না করলে যুবকরা অলস থাকে। আর এ অলসতা থেকেই তাদের নানা অপর্কম মাথায় ঢুকবে। যা বাস্তবায়নে অস্থির হয়ে উঠবে সমাজ ও রাষ্ট্র। তবে নিয়মিত খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় থাকলে যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখা সম্ভব। আর যুব সমাজ যদি খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে তাহলে নেশা কিংবা অসৎ কাজের চিন্তা তাদের মাথায় থাকবে না। ফলে দেশ ও জাতি সুশৃঙ্খল এবং উন্নত হবে।
এর আগে ফাইনাল টুর্নামেন্টে ফুটবল খেলায় পূর্বচান্দরা একাদশকে ট্রাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে মোল্লাপাড়া একাদশ জয় লাভ করে। এছাড়া ব্যাটমিন্টন খেলায় দুই বন্ধু দলকে হারিয়ে মোখলেছুর রহমানের ব্লাক এন্ড হোয়াইট দল জয় লাভ করে। পরে প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ফুটবল ও ব্যাটমিন্টন খেলায় বিজয়ী ও রানার্স আপ দলের মাঝে ট্রফি এবং প্রাইজ মানির চেক তোলে দেন।
জ/আ