তিস্তার পানি সরানোর বিষয়ে জানতে ভারতকে চিঠি দেয়া হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৩, ৮:৪৫ পিএম

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, বাংলাদেশের উজানে তিস্তা নদী থেকে ভারতের আরও পানি প্রত্যাহারের বিষয়ে দেশটির সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) পানি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বহুপক্ষীয় অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি এ কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের আওতায় আরও দুটি খাল খননের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে ভারত সরকারকে চিঠি পাঠানো হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে আমরা করণীয় ঠিক করবো।’

এছাড়া দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জনকূটনীতি বিভাগের মহাপরিচালক সেহেলী সাবরীন বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে খাল খননের মধ্য দিয়ে তিস্তার পানি সরিয়ে নিচ্ছে ভারত, প্রকাশিত এমন খবরের সত্যতা যাচাই করা হবে। বিষয়টি ভারতের সংশ্লিষ্ট পক্ষের থেকে যাচাইয়ের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা।’

প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সেহেলী সাবরীন বলেন, ‘যে কোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আগ্রহী বাংলাদেশ।’

এদিকে, আগামী ২২ -২৩ মার্চ জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ইউএন ২০২৩ ওয়াটার কনফারেন্স’। নেদারল্যান্ডস ও তাজিকিস্তানের যৌথ সভাপতিত্বে এই সম্মেলনে বাংলাদেশও অংশ নিচ্ছে।

সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পানি বিষয়ক অভিযোজনে বাংলাদেশের নিজস্ব অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরবেন। এছাড়া ভবিষ্যতে পানির প্রাপ্যতা এবং সামগ্রিকভাবে পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবে বাংলাদেশ।

গত ৪ মার্চ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কৃষি কাজের জন্য পানি সরাতে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের আওতায় আরও দুটি খাল খননের উদ্দেশ্যে প্রায় ১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ বিভাগ।

টেলিগ্রাফ বলছে, এই পদক্ষেপ ভারতের জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলায় আরও বেশি কৃষি খামারকে সেচের আওতায় আনতে সাহায্য করবে।

টেলিগ্রাফ আরও জানায়, ৩ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিকের উপস্থিতিতে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন প্রায় ১ হাজার একর জমি সেচ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে। এই জমি তিস্তার বাম তীরে দুটি খাল খননে প্রশাসনকে সহায়তা করবে। জলপাইগুড়ি জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আরেক নদী জলঢাকার পানিপ্রবাহও খালগুলোর দিকে সরিয়ে দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গ সেচ বিভাগের বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফ বলছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী তিস্তা ও জলঢাকা থেকে পানি সরাতে কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন করা হবে। একইসঙ্গে তিস্তার বাম তীরে ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আরেকটি খাল খনন করা হবে।

এদিকে, তিস্তার পানি সরাতে নতুন খাল খননের খবরের মধ্যে আরও দুঃসংবাদ জানিয়েছে টেলিগ্রাফ। ভারতীয় এই গণমাধ্যমে গত ১৩ মার্চের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার দার্জিলিং এলাকায় তিস্তার পানিতে তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরিকল্পিত এ তিনটি প্রকল্পের মধ্যে দুটি সেচের জন্য তিস্তায় উপলব্ধ পানির পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে ডিসেম্বর-এপ্রিলের শুষ্ক মৌসুমে, যখন বাংলাদেশে সেচের পানির চাহিদা বেড়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এমন উদ্যোগে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা বাড়বে ঢাকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফ বলছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বড়া রংগিত নদীতে তিস্তা লো ড্যাম প্রজেক্ট (টিএলডিপি) ১ ও ২-এর ওপর একটি বিশদ প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে, যৌথভাবে যার বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৭১ মেগাওয়াট।

একইভাবে বালাসন এবং রংভাং নদীতে বালাসন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের (৩৮ মেগাওয়াট) বিশদ প্রতিবেদন তৈরির প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সূত্রটি বলছে, ‘টিএলডিপি ১ ও ২-এর পাশাপাশি আরও ১০টি ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ডিপিআর প্রস্তুতের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে তার সম্ভাব্যতা যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।’

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুসারে, অন্য প্রকল্পগুলোর বাইরে টিএলডিপি ১ ও ২ নিয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ, এ প্রকল্প দুটি বড়া রংগিত নদীতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আর এ নদীটি তিস্তার যে অংশ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে সেই অংশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আর তিস্তার পানিতে ঢাকারও অধিকার আছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলে পানি সংকট নিরসনে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। এখন নতুন করে দুটি খাল খনন ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে তিস্তা নদী থেকে আরও পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করেছে ভারত। এটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ আরও ক্ষতির মুখে পড়বে।

বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে যখন কৃষিকাজের জন্য পানির চাহিদা বাড়ে তখন বাংলাদেশ ন্যায্য পানি থেকে বঞ্চিত হবে। ক্ষতির মুখে পড়বে তিস্তাপাড়ের কৃষক ও কৃষি উৎপাদন।

 
-জ/অ             

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft