তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ২০ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান সংগ্রহ করতে পেরেছে বাংলাদেশ।এরফলে হোয়াইটওয়াশ ঠেকাতে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ১৫৯ রান।
চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারানোর পর মিরপুরে এসে বাংলাদেশ জয় পায় ৪ উইকেটে। এই ম্যাচ জিতলে আয়ারল্যান্ডের পর টি-টোয়েন্টিতে কোনো প্রতিপক্ষকে ৩-০ ব্যবধানে হারানোর নজির গড়বে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন লিটন দাস। প্রথম বাউন্ডারি আসে ব্যাটের কানায় লেগে। ভাগ্য সঙ্গে থাকায় বল স্টাম্পে লাগেনি। তবে এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পেতে থাকেন। খেলতে থাকেন একের পর এক দারুণ শট। শেষ পর্যন্ত ৭৩ রানের ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। ৫৭ বলে ১০টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজান নিজের ইনিংস।
বাংলাদেশ সফরে এদিনই প্রথম টস জিতে নেয় ইংল্যান্ড। আগে ফিল্ডিং বেছে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান অধিনায়ক জশ বাটলার। রনি তালুকদারকে নিয়ে শুরুটা দারুণ করেন লিটন।
৫৫ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন তারা। তবে এ জুটি ভাঙতে পারতো আগেই। ব্যক্তিগত ১৭ রানে জোফরা আর্চারের বলে মিডঅনে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন রনি। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ছেড়ে দেন রেহান আহমেদ।
তবে জীবন পেয়ে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি রনি। এক ওভার পরই বোলার আদিল রশিদের হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরেছেন। রিভার্স সুইপ করতে গেলে বল ব্যাটের কানায় লাগলে চলে যায় বোলারের হাতে।
২২ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ২৪ রান করেন এ ওপেনার। রনির বিদায়ের পর উইকেটে আসেন শান্ত। লিটন দাসের সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন এ ব্যাটার। তৃতীয় উইকেটে স্কোরবোর্ডে ৮৪ রান যোগ করেন এ দুই ব্যাটার।
এ জুটিও আগেই ভাঙতে পারতো ইংলিশরা। ফিফটি তোলার পরপরই মিডউইকেট সীমানায় ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন লিটন। এবার তার সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন বেন ডাকেট।
এবারও দুর্ভাগা বোলারের নাম আর্চার। বাংলাদেশের রানের গতি তখন বাড়ছিল হুহু করে। ১৪ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ১ উইকেটে ১২২ রান। কিন্তু এরপরই দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে থাকেন ইনিংসরা। শেষ ছয় ওভারে ৩৬ রান খরচ করে দলটি। শেষ ৩৪ বলে বাউন্ডারি আসে মাত্র ১টি।
এরমাঝেই লিটনকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ক্রিস জর্ডান। মিডউইকেটে ফিল সল্টের হাতে ক্যাচ তুলে দেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। রানের গতি বাড়াতে পারেননি শান্তও।
১৪ বলে ২৫ রান করা এ ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে খেলেন অপরাজিত ৪৭ রানের ইনিংস। অর্থাৎ বাকি ২২ রান করতে বল খেলেছেন ২২টি। সাকিব শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ বলে ৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকেল ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়েছে। ওয়ানডে সিরিজ হারলেও টি-টোয়েন্টিতে প্রথম দুই ম্যাচেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আগের ম্যাচে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলে সাকিব আল হাসানের দল। এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার স্বাদ পাচ্ছেন তানভীর।
এবার বিপিএলে সর্বোচ্চ ১৭ উইকেট নিয়ে আলো কাড়েন তিনি। টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে আসার পর তৃতীয় ম্যাচে এসে একাদশে জায়গা পেলেন এই বাঁহাতি।
এছাড়া আফিফ হোসেনের জায়গায় একাদশে এসেছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি। শেষ ম্যাচের একাদশে কোন বদল আনেনি ইংল্যান্ড। অর্থাৎ দুই পেসার রিস টপলি ও মার্ক উডকে বাইরে রেখে বাকিদের নিয়ে খেলতে নেমেছে তারা।
বাংলাদেশের একাদশ: লিটন দাস, রনি তালুকদার, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, তৌহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, তানভীর ইসলাম।
ইংল্যান্ডের একাদশ: জস বাটলার, ফিল সল্ট, ডাভিড মালান, বেন ডাকেট, মঈন আলি, স্যাম কারান, ক্রিস জর্ডান, ক্রিস ওকস, রেহান আহমদ, আদিল রশিদ, জোফরা আর্চার।
জ/আ