প্রকাশ: রোববার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২:৩২ পিএম

গাজীপুরে অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘরের মূল্যবান সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে।
শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ বেলতলী গ্রামে শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ডাকাতি হওয়া ওই বাড়ির মালিক সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এম এ জলিল। এ ঘটনার সময় বাড়িতে কেবল তাঁর মা ও বাবা ছিলেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি এম এ জলিলের বাবা আবদুল বাতেন ঘটনার বর্ণনায় বলেন, বাড়িটি সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা। মই দিয়ে ডাকাত দল প্রাচীরের ভেতরে প্রবেশ করে। বারান্দায় এক অংশে থাই গ্লাস দেয়া ছিল।
ওই গ্লাস কৌশলে খুলে বারান্দায় গ্রিলের দরজার ভেতরের সিটকিনি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ডাকাতেরা। এরপর থাকার ঘরের দরজায় লাগানো ‘নব লক’ ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে।
এসময় ডাকাত দলের লোকজন তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে জিম্মি করে ফেলে। কোনো শব্দ করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
এরপর প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে লুটপাট। টাকা, স্বর্ণালংকার ও বিশেষ অনুষ্ঠানে পরার জন্য অতিরিক্ত ডিআইজির ইউনিফর্ম (টিউনিক) লুটে নেয় ডাকাতেরা।
আবদুল বাতেন আরও বলেন, লুটপাট শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের দুইজনকে বেঁধে রেখে যেতে চান ডাকাত দলের সদস্যরা। নিজের অসুস্থতার কথা বলে অনুরোধ করার পর তাঁদের না বেঁধেই ডাকাতেরা চলে যায়।
পরে বাইরে এসে আশপাশের লোকজনকে ঘটনার কথা জানান তাঁরা। ডাকাত দলের প্রত্যেকেই হাফপ্যান্ট পরা ছিল। কারও মুখে ছিল মাস্ক, আবার কারও মুখ কাপড় বাঁধা। তাই তাদের চেনা যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মিন্টু মিয়া বলেন, ‘দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে ওই বাড়িতে লুটপাট করা হয়েছে। পুলিশের পোশাকসহ অন্যান্য জিনিসপত্র, টাকাপয়সা লুট হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঘটনার পরপর পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। আশা করি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পারব।’
জ/আ