প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১:৫৭ পিএম

সদ্য এইচএসসি পাস করা মেধাবী ছাত্র হতে চান আইনজীবী। কিন্তু টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মেধাবী সেই ছাত্রের। এই মেধাবী শিক্ষার্থী হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের খুটিয়াটুলি গ্রামের ট্রলির হেলপার রাজু হোসেন। তার স্বপ্ন আইন বিভাগে লেখাপড়া করার। কিন্তু এই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা।
এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ- ৫ অর্জন করে রাজু হোসেন। কিন্তু পারিবারিক অবস্থা খারাপ থাকার কারণে ভর্তি বা পড়ালেখা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে তার।
বাবা আনোয়ার হোসেন পেশায় ভ্যানচালক ও মা নাজমা বেগম হিমাগারের শ্রমিক। পড়াশোনার খরচ চালাতে রাজু নিজেও ইট ভাটার ট্রলির শ্রমিকের কাজ করে। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় সে। বাড়ির পাশের বিদ্যালয় থেকে এস.এসসিতে জিপিএ- ৪.২২ ও চলতি বছরে রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ- ৫ পেয়েছে রাজু হোসেন।
পরিবারের মেধাবী ছেলে এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলে উত্তীর্ণ হওয়ায় চোখে-মুখে হাসি থাকলেও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ভর্তির টাকা নিয়ে। কিভাবে জোগাড় করবেন ভর্তির টাকা। নিজের ভিটে-বাড়ি ছাড়া তেমন কোন নিজস্ব জমিজমা নেই তাদের পরিবারে।
রাজুর বাবা আনোয়ার জানান, ছেলেটা ছোট থেকেই মেধাবী। যার কারণে ওর লেখাপড়ায় কোন ভাটা পড়ুক তা চাইনি। কষ্ট করেই পড়িয়ে যাচ্ছি। কিভাবে যে তার ভর্তি পরীক্ষা খরচ জোগার করবো কোন কূল কিনারা পাচ্ছি না। যদি কেউ সহযোগিতায় আসতেন, তাহলে তার স্বপ্নপূরণ হবে।
মেধাবী শিক্ষার্থী রাজু জানায়, কি করবো আমি বুঝতে পারছি না? ছোটবেলা থেকেই কষ্ট করে আসছি। কখনও কখনও না খেয়ে স্কুলে গিয়েছি, কিন্ত বাদ দেইনি স্কুল ও কলেজের পড়াশোনা। আমি এখন আইন নিভাগ পড়তে চাই। কিভাবে ভর্তি হবো, কিভাবে কী করবো বুঝতে পারছি না। আমার স্বপ্নের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক অভাব অনটন। বে-সরকারি এনজিও থেকে কিছু টাকা লোন নিয়ে রংপুরের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয় পরীক্ষার জন্য। কিছু টাকা দিয়ে ভর্তি হলেও খাওয়াসহ অন্যান্য খরচ বহন না করতে পারায় আর কোচিং-এ যাওয়া হয়নি তার। এখন কোচিং চলছে ভর্তি হওয়ার, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নাই যে ভর্তি হবো।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারী বলেন, রাজুর এই বিষয়টি আগে জানতাম না। জেনে খুশি হলাম। ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার পক্ষ থেকে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সহযোগিতা করব।
রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির বলেন, বিষয়টি যেমনিভাবে কষ্টের তেমনি অনুপ্রেরণার। পড়াশোনার ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনো উপায়ে তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভাব। রাজু তাই প্রমাণ করেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং আমি ব্যক্তিগত ভাবে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।
জ/আ