প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৯:০২ পিএম আপডেট: ১০.০২.২০২৩ ৯:২১ পিএম

প্রকৃতিতে ফাল্গুন আসতে আরও কিছুদিন বাকি। তবে এরই মধ্যে পিরোজপুরের নাজিরপুরে গাছে গাছে উঁকি দিয়েছে আমের মুকুল। উপজেলার বিভিন্ন জায়গার আম বাগান, বাড়ির আঙ্গিনা ও উপজেলা সদরের বিভিন্ন অফিস চত্তরের আম গাছে এখন সৌরভ ছড়াচ্ছে মুকুল।
চাষিরাও পরিচর্যায় নেমে পরেছেন আমের বাগানে। তবে পুরো মুকুল আসতে আরও ১৫-২০ দিনের মতো সময় লাগবে বলে জানাগেছে তবে এ বছর শীতের প্রভাব আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে আগে থেকেই। আর গাছে গাছে মুকুল আসায় উপজেলা জুড়ে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মিষ্টি গন্ধ।
মুকুলের মৌ মৌ মিষ্টি গন্ধ জানান দিচ্ছে প্রকৃতিতে মধুমাস সমাগত। আগাম মুকুল আশায় আম চাষীদের মনে আশার আলো দেখা দিয়েছে। তবে ঘনকুয়াশা নামলে আগাম মুকুলের ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য মতে, নাজিরপুর উপজেলায় প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফজলি, গোপালভোগ, মোহনভোগ, ন্যাংড়া, ক্ষিরসাপাত, হিমসাগর, কৃষাণভোগ, মল্লিকা, লক্ষণা, আমরুপলি, দুধসর, দুধকলম, বিন্দাবনী, আরজান, রাণী পসন, মিশ্রীদানা, সিঁন্দুরী, আশ্বিনাসহ নানা প্রকার গুটি আম।
এদিকে আগাম মুকুলের দেখা দেওয়ায় বাগান মালিকরা অনেকটা আগে ভাগেই আম বাগানগুলোতে পরিচর্যার কাজ শুরু করেছে। আমের রাজধানী হিসেবে রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ বিখ্যাত হলেও পিরোজপুরের নাজিরপুর কোনো অংশে কম নয়।
সরেজমিনে নাজিরপুর উপজেলার তারাবুরিয়া ও সিংখালী গ্রামে দেখা যায় বাগান ও বাড়ির আঙ্গিনাসহ উপজেলার বিভিন্ন জায়গার গাছে গাছে দুলছে আমের মুকুল।
কথা হয় আম চাষী জ্যোতিষ চন্দ্র হালদারের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আবহাওয়াগত ও জাত ভেদের কারণে নির্ধারিত সময়ের একমাস আগেই কিছু কিছু গাছে দেখা দিয়েছে মুকুল।
তবে বর্তমানে বাগানের প্রতিটি গাছেই পুরোপুরিভাবে মুকুল ফুটতে শুরু করছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার গাছগুলোতে মুকুলের সমারোহ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ইশরাতুন্নেছা এশা জানান, ‘এ বছর আবহাওয়া ও জাতের কারনেই মূলত কিছু কিছু আমের গাছে আগাম মুকুল আসছে। ঘনকুয়াশা না হলে মুকুলের ক্ষতি হবে না। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকুলে থাকলে ফেব্রুয়ারীর শেষ সময়ের মধ্যে সব গাছে মুকুল দেখা যাবে বলে জানান
তিনি।’