
সাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার দায়ে ঘাতক স্বামী রবিউল ইসলাম (৩০) কে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। ফাঁসিরদণ্ড প্রাপ্ত আসামি রবিউল ইসলাম সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুরের পূর্ব মেহেদীবাগের বিল্লাল গাজীর ছেলে।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জনাকীর্ন আদালতে এম জি আযম এ রায় প্রদান করেন।
মামলার বিবরণে জানান যায়, ২০১০ সালে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার আগরহাটি গ্রামের শহীদুল ইসলামের মেয়ে রাবেয়া খ্তাুনের সঙ্গে সাতক্ষীরা শহরের পূর্ব মেহেদীবাগের বিল্লাল গাজীর ছেলে রবিউল ইসলাম গাজীর সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় জামাতাকে নগদ টাকা, সোনার গহনা ও আসাবাবপত্র সহ তিন লাখ টাকার জিনিসপত্র দেওয়া হয়।
এরপরও বিয়ের এক বছর না যেতেই রবিউল ও তার পরিবারের সদস্যরা রাবেয়াকে বাপের বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে আসতে চাপ প্রয়োগ করে। বাপের বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা আনতে অপারগতা প্রকাশ করায় রাবেয়ার উপর শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে বাপের বাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে শহীদুল ইসলাম ৭০ হাজার টাকা দিয়ে মেয়েকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
এরপরও বাকি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে রাবেয়াকে ২০১৪ সালের ৬ জুন সন্ধ্যা ৬টায় রবিউল ও তার পরিবারের সদস্যরা নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পূর্ব মেহেদীবাগের জনৈক আজিজ মিস্ত্রীর মাধ্যমে খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যেয়ে মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
এক পর্যায়ে পরদিন নিহতের বাবা শহীদুল ইসলাম বাদি হয়ে জামাতা রবিউল ইসলাম, তার বাবা বিলাল গাজী, মা রোকেয়া বেগম, ভাই হাসান ও বোন আসমা খাতুনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ২০০৩ সালের ১১(ক)/৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
আসামি রবিউল ইসলাম ২০১৪ সালের ৮ জুন জ্যেষ্ট বিচারিক হাকিম শিমুল কুমার বিশ্বাসের কাছে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক তানভির হোসেন ওই বছরের ১৭ নভেম্বর আদালতে এজাহারভুক্ত ৫ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার নথি ও ১৩ জন সাক্ষীর জবারন বন্দি পর্যালোচনা শেষে আসামি রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে স্ত্রী রাবেয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এম জি আযম তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সহ একইসাথে ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
একই আদেশে চার আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদার করা হয়। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড. এসএম হায়দার আলী।
সাতক্ষীরা নারী ও নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারী কৌশলী এ্যাড, জহুরুল হায়দার বাবু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।