
সিরাজগঞ্জের যমুনা বিধৌত কাজিপুরে শীতের আগমনে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছে কম্বল তৈরীর কারিগরেরা। কম্বল পল্লী নামে খ্যাত উপজেলার শিমুলদাইড় বাজার সহ কাজিপুরের প্রায় ৩০-৩২ টি গ্রামের ১৫থেকে ২০ হাজার কারিগর ও তাদের পরিজনরা।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারো নিম্ন আয়ের মানুুষেরা নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ।
বাড়তি আয়ের সুযোগে এই কম্বল তৈরী দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে কম্বল তৈরিতে ব্যস্ত শিমুলদাইড় গ্রামের মজনু মিয়া জানায়। শিমুলদাইড় বাজার, কুনকুনিয়া, বড়শিভাঙ্গা, শ্যামপুর, গাড়াবেড়, মাইজবাড়ি, চালিতাডাঙ্গা, মেঘাই, নয়াপাড়া, গাঁন্ধাইল মিলে ২৫/৩০ টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার পরিবার গার্মেন্টস এর ঝুঁট কাপড় বা টুকরো কাপড় দিয়ে স্থানীয় কম্বল তৈরি করছেন।
কম্বল তৈরীর শ্রমিক সেলিনা জানায়,আমরা পা মেশিন দিয়ে প্রতিদিন ১জন শ্রমিক ২-৩ টা কম্বল তৈরি করে থাকি। প্রতিটি কম্বলের মজুরি পাই ৩০/৩৫ টাকা।
কারিগর কোহিনুর বেগম জানান, ফ্লাডলক মেশিনে অধিক কম্বল তৈরী করে বাড়তি টাকা আয় করে। কিন্তু মেয়েদের কম্বল তৈরীর মজুরী কম হলেও পারিবারিক কাজের ফাঁকে শীত মৌসুমে আমাদের ছেলে-মেয়েকে নিয়ে কম্বল সেলাই করে সংসারের অভাব দূর করতে সক্ষম হই।
সেলিম শিমুলদাইড় বাজারে ফ্লাডলক মেশিনে কাজ করেন, সেখানে তার প্রতিদিন ৮/৯ শ টাকার মত আয় হয়। আরএভাবেই সংসারের খরচ বাদে ছেলে- মেয়েকে লেখাপড়া করাতে তাকে বেগ পেতে হয় না।
কুনকুনিয়া গ্রামের ১৫ হাজার পা মেশিন, শিমুলদাইড় বাজারে প্রায় ৩শ যন্ত্র চালিত ফ্লাডলক পাওয়ার মেশিন রয়েছে। ফ্লাডলক পাওয়ার মেশিনে প্রতিদিন ৯শ থেকে হাজার পীস কম্বল তৈরি হয়। প্রতি কারিগর ৮ থেকে ৯ শত টাকা আয় করে বলে শ্রমিক হালিম জানান।
বাজার সমিতির সভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জানান, ১৯৯৪ সালে এই এলাকার সাইদুল নামে একজন প্রথমে গার্মেন্টসের ঝুঁটকাপড় দিয়ে কম্বল তৈরি শুরু করেন।
আজ এখানে কম্বলের পাশাপাশি ছোট ছেলেমেদের গরম কাপড়ের পোশাকও তৈরি হচ্ছে। আর উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় সহ বিভিন্ন জেলার মহাজনরা এসে কম্বল ক্রয় করেন।
এক সময় এই ব্যবসাটি স্থানীয় পর্যায়ে হলেও সময়ের ব্যবধানে এর পরিধি বেড়ে সারাদেশব্যাপী বিস্তার লাভ করেছে। যমুনার ভাঙ্গনকৃত এই এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মুখ্য ভূমিকা রাখছে।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুখময় সরকার জানান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উন্নতির জন্য সকল প্রকার সহযোগীতা করা হবে।
শীতের মৌসুমে শিমুলদাইড় বাজারে প্রায় শতকোটি টাকার ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। কিন্তু নিকটবর্তী এলাকার ব্যাংক না থাকায় ক্রেতা বিক্রেতাকে ঝাঁমেলা পোহাতে হয়।
তাছাড়াও কম্বল তৈরির ব্যবসা অনেক বেকারত্ব দূর হয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করেন।