
ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আজ পদত্যাগ করছেন। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক খবরে বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে আগামী শরৎকাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন।
জানা যায়, জনসনের নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে একের পর এক মন্ত্রী ও সরকার বিষয়ক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পদত্যাগের পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন। মন্ত্রী ও পদস্থ কর্মকর্তা মিলিয়ে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি সরে দাঁড়িয়েছেন জনসনের সরকার থেকে। এরপর থেকেই তার পদত্যাগের গুঞ্জন উঠে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আজ বিকালের দিকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন জনসন। যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আজ প্রধানমন্ত্রী একটি বিবৃতি দেবেন। সেখানে পদত্যাগের বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য টবিয়াস এলোড প্রথমে জনসনের পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি বলেন, পার্টির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন জনসন। এ নিয়ে দলে কোনো মতবিরোধ নেই।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন।
তবে এর ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া গেছে বিবিসির প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেবেন জনসন, যার মধ্য দিয়ে তার প্রধানমন্ত্রিত্বেরও অবসান ঘটবে। ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্ব চলে গেলে সরকার প্রধানের পদেও থাকা হবে না জনসনের। তবে কনজারভেটিভরা নতুন নেতা ঠিক করার আগ পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব চালিয়ে নেবেন।
বিবিসি জানিয়েছে, জনসন তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা এরইমধ্যে টোরি পার্লামেন্টারি গ্রুপ ১৯২২ কমিটির চেয়ারম্যানকে জানিয়ে দিয়েছেন। অক্টোবরে দলীয় সম্মেলনে দায়িত্ব নেওয়া নতুন নেতাই প্রধানমন্ত্রী জনসনের পদে স্থলাভিষিক্ত হবেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, দলে বিদ্রোহীদের পাশাপাশি নতুন নিয়োগ পাওয়া মন্ত্রীরাও জনসনকে ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলে তার সরকার অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো পথ জনসনের জন্য খোলা ছিল না।
গত ৬ জুন কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা বরিস জনসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আয়োজন করেন।
এ দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একবার কোনো অনাস্থা ভোট আয়োজন করলে, আগামী এক বছরের মধ্যে কোনো এরকম ভোট আয়োজন করা যাবে না।
এ নিয়ম পরিবর্তন করার তোড়জোড়ও শুরু হয়েছিল। তবে এর আগেই পদত্যাগে রাজি হয়েছেন জনসন।
সম্প্রতি জনসনের বিশ্বস্ত সবাই তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। মিত্রহীন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তার অর্থমন্ত্রীও পদত্যাগ করেছেন।
-জ/অ