লোডশেডিং থেকে এখনই মুক্তি নেই
প্রকাশ: বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২, ৪:৫০ পিএম আপডেট: ০৬.০৭.২০২২ ৪:৫৪ পিএম

বৈশ্বিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বৃদ্ধি হওয়ায় সরকার সম্প্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানি পর্যাপ্ত আমদানি করতে পারছে না। যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশে লোডশেডিং বেড়েছে।

আন্তার্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বাড়ার কারণ মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। যার ফলে এলএনজি’র দাম প্রতি ইউনিটে বেড়েছে ১৩ ডলারেরও বেশি। এর কারণে গ্যাস আমদানি অর্ধেক কমেছে। 

দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের মজুতও প্রায় শেষ। বাংলাদেশ ২০১৮ সালের এপ্রিলে ওমান ও কাতারের সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অধীনে এলএনজি আমদানি শুরু করে। তবে এরপর আর জ্বালানির অন্য কোনো উৎস অনুসন্ধান করেনি সরকার। এমন পরিস্থিতে সারাদেশে প্রতিদিনই লোডশেডিং বেড়েছে। যদি বৈশ্বিক পারিস্থিত স্বাভাবিক না হয় তাহলে আগামীতে লোডশেডিং আরও বাড়বে।

এদিকে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে শিল্প কারখানায়ও উৎপাদন কার্যকম বাধা সম্মুখীন হচ্ছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে সাধারণ মানুষ পরেছে দুর্ভোগে।

সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, চলমান জ্বালানি সংকট শিগগির শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। ফলে আগামী দিনে বিদ্যুতের ঘাটতি বা লোডশেডিং নিয়মিত ঘটনা হবে।

এদিকে মঙ্গলবার (০৫ জুলাই) এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সংকট মোকাবিলার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি সাথে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এর প্রভারে বেড়েছে জ্বালানি এবং এলএনজির দাম।

বিশ্বের অনেক দেশ বিদ্যুৎ ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে কয়লাও পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশের বর্তমানে ১ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে।

বিশ্বাবাজারে এই ব্যয়বহুল জ্বালানির দাম সাম্প্রতিক সময়ে ২৫ থেকে ৩৮ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশে প্রতিদিন ১ বিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ওমান ও কাতারের সঙ্গে করা চুক্তির কারণে বাংলাদেশ খোলা বাজার থেকেও এলএনজি কিনতে পারছে না।

গত ৩ জুলাই জাতীয় গ্রিডে ৫১০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়েছে। সাধারণত জাতীয় গ্রিডে ২.৭ থেকে ২.৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ দেশে এখন প্রতিদিন প্রায় ১.১ বিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

গ্যাস ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন জ্বালানি তেল ও কয়লা থাকলেও ডিজিল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে খরচ পরবে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। খরচ বেশি হওয়ায় রেশনও করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন দৈনিক ক্ষতি গুণতে হচ্ছে ১০০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে কয়লার দাম কম হলেও গ্রিডে পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় কয়লাভিত্তিক পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা এখনও অর্ধেক। রামপালে আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত উৎপাদন হচ্ছে না। একটি সূত্র বলছে অক্টোবর নাগাদ চালু হতে পারে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। ফলে চাহিদা কমানো বা ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া ছাড়া বিদ্যুৎ এর ঘাটতি এখন সমাধান করা সম্ভব না। 

আগামী দুইদিন লোডশেডিং পরিস্থিতি একই থাকবে বলে জানিয়েছেন বিপিডিবির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা। ঈদের পর ছুটি কমলে চাহিদা কমতে পারে বলে জানান তারা।

তাছাড়া প্রতিদিন ৫০০-৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ঈদের ছুটির পর রাত ৮টা থেকে সারাদেশের সকল দোকান-পাট বিপনিবিতান  বন্ধ রাখার কঠোর ব্যবস্থা নিবে সরকার।

এদিকে বিপিডিপি জানায়, বছরের এই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। শনিবার সাবস্টেশন পর্যায়ে সবোর্চ্চ ১৩ হাজার ১০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়েছে। ওইদিন কাগজ কলমে লোডশেডিং না থাকলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ১-৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ ছিল না বলে জানা যায়।

জ্বালানি সংকটের ফলে শনিববার থেকে সোমবার পর্যন্ত বিপিডিবি উৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে ৩৩০ মেগাওয়াট, ১৫০০ মেগাওয়াট এবং ১৪০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে।


জ/আল

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft