
চাষীদের কাছ থেকে নয়, নিজে মুনাফা লুটতে রাতের আঁধারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তামাক কেনার অভিযোগ উঠেছে বৃটিশ আমেরিকা টোব্যাকো কোম্পানীর ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। এ কারণে জেলার তামাক চাষী ও বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) উভয় গুনছেন লোকশান। তবে ওই কোম্পানীর সহকারী ম্যানেজার বলেছেন, তামাক কেনার যে ভিডিও দেখা গেছে সেটি ঈদের পূর্বের রাতের।
তবে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন তামাক চাষী অভিযোগ করেছেন কোম্পানীর উপরের দোহায় দিয়ে প্রায় দুই মাস আগে তামক ক্রয় বন্ধ করে দেন। প্রথম দিকে তামাক চাষীদের দামও কম দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা বলেন, ব্রিটিশ আমেরিকা টোব্যাকো কোম্পানীর আর এমও সাজ্জাদ হোসেন কৃষকদের সাথে তামাক ক্রয়ে বরাবরই নানা ছলনার আশ্রয় নেন। তামাক ক্রয় বন্ধ ঘোষনা করার পরেও সাজ্জাদ হোসেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশে গোপনে তামাক ক্রয় শুরু করছেন। রাতের আঁধারে তামাক ক্রয়ের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সোস্যাল মিডিয়াতে দেখা গেছে। সেখানে দেখা গেছে রাতের আঁধারে তামাক কেনা হচ্ছে।
কোম্পানীর চুক্তিবদ্ধ তামাক চাষীদের গোপন করে মেহেরপুর ডিপোতে গত ১৯-০৫-২২ইং তারিখ রাত ১২ টার সময় আর এমও সাজ্জাদ হোসেন তামাক ক্রয় করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, যেখানে চাষীদের তামাকের ন্যায্য মূল্য দেননা। সেখানে তামাকের ব্যবসায়ীরা গোপনে পুরানো তামাক বিক্রয় করে লাভবান হচ্ছেন।
কৃষকরা আরও বলেন, সাজ্জাদ হোসেন একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নির্ধারিত মূল্যে’র চেয়ে বেশি দিয়ে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে পুরানো তামাক কিনছেন। ফলে চাষীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির পাশাপাশি কোম্পানীও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
আর এমও সাজ্জাদ হোসেন দালাল চক্রের ফাদে ফেলে অনেক তামাক চাষীকেই সর্বশান্ত করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
জানা গেছে, কোম্পানীর সাথে চুক্তিবদ্ধ চাষীরা লোন নেয়ার পরিমান মত টাকার তামাক ক্রয় করছে বিএটিএ। তাদের লোনের টাকা পরিশোধ হওয়ার পর আর কোন তামাক কিনছেনা তারা। অথচ চাষীদের কার্ডে অসাধু দালালের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও নামধারী চাষীদের কাছ থেকে তামাক ক্রয় করছে। পরে ঐসব চাষীদের কাছে ব্যাংকের চেক দাবি করছে। চেক না দিলে কার্ড কেটে দেওয়ার হুমকীও দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে, বিএটি’র আরেক অফিসার কামাল হোসেন বলেছেন যে ভিডিও দেখা গেছে সেটি ঈদের আগের রাতের তামাক ক্রয়ের ভিডিও।
তিনি বলেছেন, আমরা কোম্পানীর কর্মচারী। এখানে কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম ও বাণিজ্য করলে তার চাকুরি চলে যাবে।