
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পুরনো এলসির বিপরীতে ভারত থেকে গম রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় কাস্টমস। ভারত সরকার হঠাৎ করে নিজ দেশে গমের দাম স্থিতিশীল রাখতে গম রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে।
তবে গত ১২ মে এর পূর্বের এলসির বিপরীতে ভারত থেকে গম রফতানির কথা বললেও আবারও বাংলাদেশে গম রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় কাস্টমস কতৃপক্ষ। রফতানি বন্ধের খবরে বন্দরে গমের দাম বেড়ে চলছে। প্রতি কেজি ৩৪ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪১-৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ মে) বিকেল ৪ টা পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পুরনো এলসির বিপরীতে ভারত গম রফতানি হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, গতকাল সোমবার বন্দর দিয়ে গম এলেও পরিমাণ ছিল খুবই কম। আগে টেন্ডারকৃত শনিবার আসা গমের বাকি কিছু সোমবার পাঠিয়েছে ভারতীয় কাস্টমস।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রফতানি কারক গ্রুপের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক এটিএম রবিউল ইসলাম সুইট বলেন, গত ১২ই মে আগের করা এলসির গম ভারত থেকে আমদানি অব্যাহত ছিলো। তবে চাহিদার তুলনায় আমদারি পরিমান অনেক কম।
এদিকে দাম বাড়ার কারণে গম কিনছে না ফ্লাওয়ার মিলগুলো। এতে গম নিয়ে বিপাকে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ভারত সরকার গম আমদানির জন্য নতুন করে এলসি না দিচ্ছে না। তবে আগের করা এলসির ৭০ হাজার মেট্টিক টন গম ভারত রফতানি করবে কথা ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে গতকাল সোমবার থেকে গমের নতুন টেন্ডার গ্রহণ করছে না। যে কারনে আজ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে গম আসে নাই।
তিনি বলেন,গত বৃহস্পতি ও শনিবার হিলি স্থলবন্দরের পাইকারী বাজরে প্রতিকেজি গম ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হয়েছে। সেই গম এখন ৪-৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৭ থেকে ৮ টাকা। বর্তমানে পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি গম বিক্রি হচ্ছে ৪১ থেকে ৪২ টাকা।
হিলি স্থলবন্দরের গম আমদানিকারক হায়াৎ মোহাম্মদ শেরেগুল ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে গমের ব্যাপক চাহিদা ও
বিভিন্ন ফ্লাওয়ার মিলগুলোতে গমের চাহিদা মেটাতে বেশ কিছুদিন ধরে ভারত থেকে আমারা গম আমদানি করে আসছি। কিন্তু নিজ দেশের চাহিদা মেটাতে ও দাম স্থিতিশীল রাখতে শনিবার থেকে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হঠাৎ করে গম রফতানি বন্ধ করে দেয়। তবে গত ১২ মে পর্যন্ত যেসব গমের এলসি দেওয়া হয়েছিল সেগুলো রফতানির কথা বলছিলেন তারা।
তিনি আরও বলেন, তাদের কথা অনুযায়ী শনিবার দুপুরের পর থেকে গম রফতানি করেছিল। এরপর রবিবার বৌদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি শেষে হঠাৎ করে সোমবার থেকে আবারও ভারতীয় কাস্টমস নতুন করে কোনও টেন্ডার গ্রহণ করছে না। ফলে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪ টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে গম আসে নাই। শনিবার পুরনো এলসির যেসব গম বাংলাদেশে ঢুকেছিল সেগুলোর কিছু বাকি ছিল।
সেসব গম সোমবার ভারতীয় কাস্টমস রফতানি করেছে। কিন্তু পুরনো এলসির বিপরীতে নতুন করে টেন্ডার হওয়া বা টেন্ডার হবে সে গমগুলো ভারতীয় কাস্টমস আটকে রেখেছে। তারা আমাদের জানিয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা আসার পরই এসব গম রফতানি করা হবে। এতে আমরা বিপাকে পড়েছি। নতুন করে এলসি না নিলেও গত ১২ মে পর্যন্ত যেসব গমের এলসি হয়েছিল সেগুলো রফতানি করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি বন্দর দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে গম আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বন্দর দিয়ে গম আমদানি বন্ধ থাকলেও দুপুরের পর থেকে আবারও আমদানি শুরু হয়।
সেদিন বন্দর দিয়ে এক হাজার ৯২৩ টন আমদানি হয়েছিল। রবিবার বৌদ্ধ পূর্ণিমার ছুটির পরে সোমবার বন্দর দিয়ে ভারত থেকে গম আমদানির পরিমাণ কমেছে। সেদিন বন্দর দিয়ে ছয় ট্রাক গম আমদানি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরে গম আমদানি হয় নাই। গম যাতে দ্রুত খালাস করে আমদানিকারকদের সরবরাহ করা যায়, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।