নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন না পেয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু।
তিনি এবারও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলেন।
সোমবার দুপুর ১টায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় স্কাই লার্ক রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি পদত্যাগ করেন। যদিও তিনি পদত্যাগ পত্রে তার স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরিফ মাসুদ বাবু বলেন, আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এড. সাজেদ আলী মিয়া সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ১৯৭০ এর নির্বাচনে নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত (এম.সি.এ) ছিলেন । আমার ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোবারক হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি। ১৯৭৩ সনে মহান জাতীয় সংসদের সর্বকনিষ্ট এমপিমএবং ১৯৮৬ স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের দুঃশাধনের আমলে ও বিপুল ভোটে নির্বাচিত এমপি ছিলেন।
পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবুল হাসনাত ১৯৮৯ সালে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের সময়ে দলের হাল ধরেন। তিনি সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের সভাপতি হন ।
এছাড়াও ২০০১ সনে বিএনপি জামাত জোট সরকারের সময় সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত মাঠে নেমে আওয়ামীলীগ এর নেতা কর্মিদের ঐক্যবদ্ধ করে সোনারগাঁ এ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেন। জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে দৃষ্টি আকর্ষন করে সারা বাংলাদেশে আন্দোলনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
সেই সময় আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশি নির্যাতনের স্বীকার হয়ে গ্রেফতার হন কায়সার হাসনাত। পরবর্তীতে যার পুরুস্কার হিসাবে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে কায়সার হাসনাতের হাতে নৌকা তুলে দেন। ফলশ্রুতিতে সোনারগাঁয়ের ৩ বারের এপপি এবং মন্ত্রী বিএনপির রেজাউল করিমকে ৮৫০০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেন এবং সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ২০১৪ তে এসে জাতীয় স্বার্থে জোটের কারণে কায়সায় হাসনাতকে মনোনয়ন না দিয়ে জাতীয় পার্টিকে এ আসন ছেড়ে দিলেন। আমরাও নেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে জোটকে স্বাগত জানালাম।
পরবর্তীতে নেত্রী আমাদের মূল্যায়ন করে আমার আরেক ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোশারফ হোসেন কে উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতিক দেন। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করাকালীন সময়ে গতনবছর ইন্তেকাল করেন। পরবর্তী উপ- নির্বাচনে আমরা ভেবে ছিলাম আমাদের পরিবারেই নৌকা প্রতিক নিবেন। কিন্তু সে সময় নৌকা আমাদের না দিয়ে একজন সিনিয়র নেতাকে দিলেন, আমরা মেনে নিয়ে ওনাকে সমর্থন দিয়ে চেয়ারম্যান বানিয়ে দিলাম।
সর্বশেষ মোগরাপাড়া ইউনিয়ন যেটা আমাদের ৭০ বৎসরের ইতিহাস। মোগরাপাড়া ইউনিয়ন হলো সোনারগাঁ রাজনীতির রাজধানী। আওয়ামী রাজনীতির পুন্যভূমি যার ধারক বাহক হলো আমাদের এই পরিবার। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ১০ বৎসর যাবৎ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগনের সেবা করে আসছিলাম।
আমার বাবা সারাজীবন রাজনীতি করেছেন মানুষের জন্য, নিজের এবং পরিবারের জন্য কোন কিছু করেন নাই। ওনার একটাই লক্ষ ছিল সোনারগাঁওয়ের দরিদ্র জনগুষ্টিকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলে আদর্শ সোনারগাঁও বানানো। সেই সপ্ন নিয়েই গড়ে তোলে আজকের মোগরাপাড়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এবং একমাত্র ডিগ্রী কলেজ তথা বর্তমানে সোনারগাঁও সরকারী কলেজ। এই প্রতিষ্ঠান দুটি ধার করানোর জন্যই জীবনের সমস্ত অর্জন ব্যায় করে গেছেন। দুই বছর এই ভয়বহ করোনা মাহামারীতে আমি এবং আমার পরিবার নেত্রীর নির্দেশে দিন রাত পরিশ্রম করে জীবনের মায় ত্যাগ করে সাধারন মানুষের পাশে দাঁড়াতে সাধ্যমত চেষ্টা করেছি এত সচ্ছ থেকে রাজনীতি করে বিনিময়ে আজকে নৌকা থেকে বঞ্চিত হলাম।
যে পরিবারে তিন প্রজন্ম আওয়ামীলীগ মনোনীত এম.পি. যা সারা বাংলাদেশে হাতে গুনলে এরকম ১০ টি পরিবার ও খুঁজে পাওয়া যাবে না আজ সেই পরিবারটিকে সামান্য একটি ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা থেকে বঞ্চিত হতে হল, এর চেয়ে কষ্টের আর কি হতে পারে?
বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে যে পরিবারটির উত্থ্যান, বঙ্গবন্ধুর গড়া আওয়ামীলীগ এর স্বর্ন যুগে সেই পরিবারটের এমন করুন পরিনতি, এমন অপমৃত্যু আমার কাছে মনে হয় আমিই ব্যার্থ। আমি মনে হয় আমার দলকে কিছুই দিতে পারিনাই, আওয়ামীলীগ এর জন্য কিছুই করতে পারি নাই। আমার জন্য আমার পরিবারে ৭০ বৎসরের সাফল্য অর্জন ম্লান হতে চলেছে। তাই আমার নেত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে সোনারগাঁয়ের সকল নেতা কর্মির কাছে ক্ষমা চেয়ে সর্বপরি আমার পরিবারের পূর্বপুরুষ এবং বর্তমান প্রজন্মের সকল সদস্যের কাছে ক্ষমা চেয়ে সকল ব্যার্থতার দায় ভার নিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ এর আহ্ববায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ- সভাপতি সোহাগ রনি।