প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মে, ২০২২, ৪:৩৮ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রীদের নিয়ে ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূরের 'আপত্তিকর' মন্তব্যের জেরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এক সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হলে প্রবেশে রাত সাড়ে ৮টা নির্ধারণ করেন হল প্রাধ্যক্ষরা।
এই সান্ধ্য আইনের যৌক্তিকতা নিয়ে একটি গণমাধ্যম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সম্প্রতি ছাত্রীরা অনেক বেশি এলোমেলো জীবনযাপন করছে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের নামে অভিযোগ আসছে। ফলে তাদের হলে প্রবেশের বিষয়ে আগের চেয়ে সময় কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।'
ওই মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর বলেন, 'আমি বলেছি কিছু কিছু ছাত্রী অগোছালো জীবনযাপন করে। তাই কিছু ছাত্রীর নামে অভিযোগ আসছে। সব ছাত্রী এলোমেলো জীবনযাপন করছে, এটি বলিনি।'
তারেক নূরের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে শাখা ছাত্র ফেডারেশন। একইসঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা এমন মন্তব্য করায় নৈতিকভাবে প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার অধিকার হারিয়েছেন উল্লেখ করে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। আজ রাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়েছে।
তার এমন মন্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার কাছ থেকে ছাত্রীদের নিয়ে এমন মন্তব্য কাম্য নয় বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে এই মন্তব্যের জন্য ছাত্র উপদেষ্টাকে জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি করেন কেউ কেউ।
শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহাব্বত হোসেন মিলন বলেন, ছাত্র উপদেষ্টা তাঁর এমন বক্তব্যের মাধ্যমে ছাত্রীদের অপমান করেছেন। তাঁর বক্তব্যে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ফুটে উঠেছে। একজন শিক্ষক কখনও তাঁর শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন না।
মহাব্বত হোসেন আরো বলেন, তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে সন্ধ্যার পর ছাত্রীরা বাইরে থাকলেই খারাপ কাজে লিপ্ত থাকেন- এমন কিছু ইঙ্গিত করেছেন। ছাত্র উপদেষ্টার এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই। তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মোল্লাহ মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের তিনি অবমাননা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে ছাত্রীদের সমাজ ও পরিবারের কাছে খারাপভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে তাঁদের প্রতি পরিবারের অবিশ্বাস, অনাস্থা তৈরি হবে। সমাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নেতিবাচক চোখে দেখবে। আমার প্রত্যাশা, তিনি এই মন্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার করে লিখিতভাবে বিবৃতি দেবেন।
জে/ আল