মির্জাগঞ্জে বেড়েছে বোরো ধানের আবাদ
মির্জাগঞ্জ(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২, ২:৩১ পিএম আপডেট: ৩০.০৩.২০২২ ৮:৫৯ এএম



পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বেড়েছে বোরো ধানের আবাদ। ধানের বাজার দর ভালো থাকা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে এখন পুরোদমে চলছে বোরোর চাষ। গতবারের চেয়ে কয়েকগুন জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়। এ এলাকার চাষীরা কোন বছরই বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল ছিলো না। তারা এ জমিতে স্থ্থানীয় কৃষকেরা লোকসানের কারনে অণ্য ফসল করতেন।

 ধানের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় এবারে অণ্য ফসল না দিয়ে বোরো ধানের চাষে আগ্রহী হয়েছেন চাষীরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মাত্র ২০ একর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছিলো। এ বছর তা বৃদ্ধি পেয়ে ২২০ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করছে কৃষকরা। উপজেলার রানীপুর গ্রামের কৃষক সোহরাফ হোসেন বলেন,গত বছর অল্প কিছু জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। ফলন ও ধানের দামও ভালো পেয়েছি। তাই এবারে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক ৮০ শতাংশ জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। 

এখন পর্যন্ত বোরো ধানের রোপনকৃত গাছ ভালোই দেখা যায়। প্রতিদিন ক্ষেতে মেশিন দিয়ে সেচ দিতে হয়। ৬৫ টাকার ডিজেল ৮৫ টাকা কিনতে হচ্ছে। সার-কীটনাষকের দাম কিছুটা বাড়লেও সমস্যা হচ্ছে না। তবে ধানের ন্যায্য মূল্য পেলে কষ্ট আর মনে থাকবে না ভেবে বোরো ধান চাষ করছেন। আগামীতে এর চেয়ে বেশি জমিতে বোরো ধানের চাষ করবো আশা করছি। কৃষক সুমন ও জাকির হোসেনের একই কথা। তারা বলেন, অল্প জমিতে অধিক ফসল পেতে বোরো ধানের চাষ করা প্রয়োজন। গত বছর বোরো ধানে ভালো দাম পেয়েছি। এখন ক্ষেতে বোরো ধাানের চাষে ব্যস্ত সময় পার করছি। ধান বিক্রি করে সংসারের পাশাপাশি অন্য চাহিদাও মেটানো সম্ভব। আমন ধানের মতো বারো ধানের যাতে ভালো দাম পাওয়া যায়-এমন প্রত্যাশা কৃষকদের। 

রানীপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,মহাসড়কের পাশে বোরো ধানের চাষ করা হচ্ছে। চৈত্রের এই প্রখর রৌদ্রো উপেক্ষা করে বোরো ফসল ফলাতে কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক পরিবারগুলো। ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় এ বছর বোরো চাষে বেশ আগ্রহ কৃষকদের। ক্ষেতে পরিচর্যা ও মেশিন দিয়ে সেচ দিচ্ছেন কেউবা ক্ষেতের আগাছা পরিক্ষার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। সঠিক সময়ে বীজ ও সার পাওয়ায় কৃষকরা বোরো আবাদে উৎসাহী হয়েছেন। 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আরাফাত হোসেন বলেন,সঠিক সময়ে বোরো আবাদে সরকারি প্ররণাদনা হিসেবে উন্নত জাতের বীজ ও সার কৃষকরা পেয়েছেন। গতবারের চেয়ে ২০০ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ বেশি হচ্ছে। সেই সঙ্গে আমনের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষক বোরো চাষে ঝুঁঁকছেন। 

উপজেলা কৃষি বিভাগ সরেজমিনে গিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি, যে কোনো সমস্যায় পরামর্শ দিচ্ছি কৃষকদের। তবে বোরো ধান এটি লাভজনক আবাদ হওয়ায় অনেকে কৃষকই এর চাষের প্রতি ঝুঁকছেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft