প্রকাশ: সোমবার, ২১ মার্চ, ২০২২, ৪:০৭ পিএম

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর যে দমন-নিপীড়ন চলেছে অবশেষে সেটাকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাইডেন প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের কথা রোববার জানিয়েছেন দেশটির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা। খবর এএফপির।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন সোমবার একটি অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে বহু আকাঙ্ক্ষিত এ ঘোষণা দিতে পারেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা বলেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো সহিংসতা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র।
জানা গেছে, সোমবার ওয়াশিংটনের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম পরিদর্শন করবেন ব্লিংকেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সহিংসতাকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে যে সিদ্ধান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন উপনীত হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।
যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর সহিংসতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন গত বছরের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়া সফরের সময় বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের আচরণ গণহত্যা কি না, তা খুবই সক্রিয়ভাবে খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর নৃশংস দমন-পীড়নের মুখে লাখো রোহিঙ্গা মুসলিম সে দেশ থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা চলছে। দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ২০১৯ সালে মামলাটির প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের নভেম্বরে আইসিজেতে মামলাটি করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।
মিয়ানমারের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করার অর্থ এই নয় যে দেশটির সামরিক শাসকদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে। তবে ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-নিপীড়ন শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার।
যুক্তরাষ্ট্রও যদি এটিকে গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করে তবে মিয়ানমার সরকারের ওপর আরও চাপ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বাইডেন প্রশাসনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপরও এ ঘোষণা দেয়ার জন্য চাপ দিয়েছিল মানবাধিকার সংগঠনগুলো।