নাজিরপুরে আলো ছড়াচ্ছে সূর্যমুখীর হাসি
নাজিরপুর(পিরোজপুর)প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২১ মার্চ, ২০২২, ২:২৩ পিএম আপডেট: ৩০.০৩.২০২২ ৮:৩৮ এএম


ফুল ফুটেছে তার যৌবনে, ফুলের উচ্ছাসে হাসছে আকাশ বাতাস। এ যেন সবুজের মাঝে হলুদের সমাহার। দৃষ্টিনন্দন ৫০ একর জমিতে নাজিরপুরে আলো ছড়াচ্ছে সূর্যমুখীর হাসি। সূর্যের ঝলকানিতে হলুদ রঙে ঝলমল করছে চারপাশ। এলাকায় বইছে সূর্যমুখীফুলের হাসিতে সুবাতাস। নাজিরপুর উপজেলার রামনগর গ্রামের কথা সারাদেশেই বেশ আলোচিত। 

ফুল প্রেমীরা ছুটে যাচ্ছেন সূর্যমুখীর হাসি দেখতে। “তাই কবি বলেছেন সূর্যমুখী তুমি যে দিকেই চোখ রাখো ঝরনা দেখো না। শোনো হে সূর্যমুখী, আবার সোনালী ছোঁয়া রূপকৌটো আঁখিতে সুরমা এঁকো, যেন এক দুপুর রোদ এসে থেমে যায় পলক শেষে, ঝলকে কথা বলবে কী? বলোনা সূর্যমুখী”। 

সূর্যমুখী চাষ করে আর্থিক ভাবে লাভবান ও সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন নাজিরপুর উপজেলার কৃষকেরা। উদ্যমী কৃষকের হাত ধরে এলাকায় এখন হলুদ হাসি হাসছে অজস্র সূর্যমুখী। সৌন্দর্যের সাথে আয়। এমন ভালো লাগার সম্ভাবনার গল্প তৈরি করেছেন নাজিরপুরের বেশ কয়েক জন কৃষক তাদের মধ্যে একজন শান্ত চক্রবর্তী। 

তিনি জানান, এবছর আমি প্রায় ৬ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি, গত বছরও আমি প্রায় ৫একর জমিতে চাষাবাদ করেছিলাম এবং প্রতি একরে ২৫ মন হারে ফলনও পেয়েছি। একর প্রতি ১১ হাজার টাকা খরচ হয়। বিগত বছরের চেয়ে এবছর আশা করি ফলন আরো ভাল হবে। তেলের দাম এ রকম বৃদ্ধি থাকলে আমি গত বছরের তুলানায় এ বছর অধিক লাভবান হব আশা করি।

 উপজেলার সেখমাটিয়া গ্রামের সূর্যমুখী চাষী মিজানুর রহমান জানান, এ বছর তিনি ৫২শতক জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ করছেন। এতে তার ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভাল পাওয়া যাবে এবং তেলের দাম এরকম বৃদ্ধি থাকলে গত বছরের তুলানায় বেশি টাকা লাভ থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। 

দেশে সূর্যমুখী তেলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কোলেস্টেরল মুক্ত তেল উৎপাদনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর ব্যপক চাষাবাদ হচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যপক চাষাবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তেমনি পিরোজপুরের নাজিরপুরেও সূর্যমুখীর চাষাবাদ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। লাভবান হওয়ার আশায় স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় ৫০ একর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দ্বিগবিজয় হাজরা জানান, আমরা চাষীদের কে সরকারিভাবে বীজ, সার, ওষুধ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। যদি এর চেয়েও বেশি চাষী ভাইদের সুযোগ সুবিধা দিতে পারি তাহলে আরো বেশি আবাদ বাড়ানো সম্ভব হবে। দেশে যে পরিমাণ তেলের বাজার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে বিদেশি তেল আমদানি না করে আমরা দেশেই উৎপাদন করতে পারি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft