প্রকাশ: রোববার, ২০ মার্চ, ২০২২, ৬:৪১ পিএম

নওগাঁর রানীনগরে বিয়ের প্রলোভনে ও ধারের টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে লাভলী খাতুন (৩১) নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া নির্দেশেনায় জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম টিম জিডির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান করে শনিবার ঢাকার আশুলিয়া থানার জিরাবো এলাকা থেকে ওই শারীরিক প্রতিবন্ধীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
১৬ ফেব্রুয়ারি চোখের চিকিৎসা করার জন্য বাড়ি থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হন লাভলী খাতুন। দীর্ঘ এক মাস পর বস্তাবন্দি মাটির নিচে পুতে রাখা অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। নিহত লাভলী খাতুন রানীনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কফিল উদ্দিনের মেয়ে। রবিবার দুপুরে পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যেমে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানান, লাভলী খাতুন (৩১) অবিবাহিত এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজশাহীর পপুলার ডায়গনটিক সেটারে চোখের চিকিৎসা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। লাভলীর পরিবারের লোকজন তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করে না পাওয়ায় তার বড় ভাই ২০ ফেব্রুয়ারি রাণীনগর থানায় নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।
এরপর নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় জিডির আলোকে জড়িত সন্দেহে রাণীনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত আয়নুল হকের ছেলে মাহাবুবুল আলম বিস্কুট (৪৫) নামে একজনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্কুটের দেওয়া তথ্য মতে ঢাকার আশুলিয়া থানার জিরাবো এলাকা থেকে বস্তাবন্দি মাটির নিচে পুতে রাখা অবস্থায় লাভলী খাতুনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া বিপিএম বার বলেন, বিয়ের প্রলোভন ও ধারের টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে কৌশলে লাভলীকে অপহরণ করে মাহাবুবুল আলম বিস্কুট ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জিরাবো পশ্চিমপাড়া বাইতুম জামে মসজিদের পূর্ব পার্শে চারদিকে উচ্চ প্রাচীর ঘেড়া একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে মাটির নিচে পুতে রাখে। লাভলীর লাশ উদ্ধার করে শনিবার বিকেলে ঢাকায় শহীদ সোহ্রাওয়াদী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন এ ঘটনায় রাণীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার মূলহোতা মাহাবুবুল আলম বিস্কুটকে আটক করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।