প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১, ২:৩০ পিএম

রাজধানীর নদী বন্দর সদরঘাটে প্রায় ৪৯ দিন পর পুরোদমে লঞ্চ চলাচল চালু হলেও আগের মতো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় নেই। তবে দীর্ঘদিন পর লঞ্চ চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে লঞ্চের মালিক, শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে। লঞ্চ চালু হওয়ায় বেশ খুশি শ্রমিক-কর্মচারীরাও।
লঞ্চে কর্মরত অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লকডাউন ছাড়াও ঈদ পরবর্তী ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরত যাত্রী অন্য সময়েও কম থাকে। তবে তারা আশা করছেন ঢাকায় ফেরার পথে আশানূরুপ যাত্রী পাবেন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে যাত্রীদের তেমন ভীড় দেখা যায়নি। যাত্রীদের লঞ্চে উঠার জন্য তোড়জোড় থাকলেও নেই যাত্রী টানার হিড়িক। লঞ্চের ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই ডেকে কাপড় বিছিয়ে শুয়ে পড়েছেন। কেউবা বসে আছেন।
তবে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী যে ধরনের স্বাস্থ্য বিধি মানার কথা বলা হয়েছিল তা মানছেন না যাত্রীরা। দেখা যায়, অধিকাংশ যাত্রীর মুখে মাস্ক নেই। স্বাস্থ্য বিধি মানার জন্য নেই কোন বাধ্যবাধকতা।
কেন মাস্ক পড়েননি? জানতে চাইলে ভোলাগামী মো: সিয়াম বলেন, আজ ঢাকায় অনেক গরম। গরমে মাস্ক ভিজে গেছে তাই খুলে রেখেছি। শুকালে আবার পড়ব।
বরিশালগামী রইজ উদ্দীন বলেন, সকলের মাস্ক নিশ্চিত করেই লঞ্চে উঠা উচিত। কিন্তু তেমন কেউই সে নির্দেশনা মানছেন না।
পূবালী-১ এর স্টাফ রহমত উল্লাহ বলেন, প্রথম ২/৩ দিন ঢাকা থেকে যাত্রীর চাপ কমই থাকবে। তবে ঢাকায় ফেরার সময় যাত্রী বেশি হবে। কারণ, পরিবার নিয়ে সবাই গ্রামে গেছে। এখন ঢাকা ফেরার পালা।
মর্নিংসান লঞ্চের ইন্সপেক্টর নাসির উদ্দীন বলেন, আমরা টিকেট বিক্রির ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ ভাড়া বেশি রাখছি এবং যাত্রী কোনভাবেই যাতে ৫০ শতাংশের বেশি না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখছি।
তাসরিক-৩ এর কর্মকতা শহিদুল ইসলাম জানান, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যাত্রা শুরু করব। মাস্ক ছাড়া টিকেট বিক্রি করছি না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ-এর যুগ্ন পরিচালক মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, সদরঘাট নৌ রুটে চলাচলকারী ২০৫ টি লঞ্চ ও তাঁদের মালিকদের'কে আমরা সরকারি নির্দেশ পাঠিয়ে দিয়েছি। মাস্ক ছাড়া লঞ্চ যাত্রী বহন করা যাবে না। লঞ্চে যাতে কেউ অর্ধেকের বেশি যাত্রী নিতে না পারেন, তা তদারকি করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে কি-না, তা-ও পর্যক্ষেণ করার জন্য মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতি ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গত ৬ এপ্রিল (২০২১) থেকে দেশের সব দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ ও অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর দীর্ঘদিন মালিক-শ্রমিকরা লঞ্চ ও গণপরিবহন চালুর দাবি জানিয়ে আসছিল। অবশেষে গত রোববার এসব যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার।
The Daily State/SM