প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৮ এএম

সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে দেশের কোথাও এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা বাজারে সরবরাহ ঘাটতির মধ্যেই গতকাল রবিবার রান্নায় ব্যবহূত জ্বালানি পণ্যটির দাম বাড়াল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত ১ হাজার ২৫৩ টাকার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাত্ জানুয়ারিতে ১২ কেজিতে দাম বেড়েছে ৫৩ টাকা। গত মাসে দাম বেড়েছিল ৩৮ টাকা। গতকাল রবিবার থেকেই এ দাম কার্যকর হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে এলপিজি নির্ধারিত দামে বা তার কাছাকাছি আসতে ৭ থেকে ১০ দিনের মতো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্ধারিত দামে দেশের খুচরা বাজারে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক স্থানে বেশি দামেও এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প উপায়ে সরবরাহ ঘাটতি কমিয়ে বাজারে স্থিতি আনতে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ।
বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে। এছাড়া নিয়মিত এলপিজি পরিবহনের ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে। তাই সময়মতো জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরও বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করার কথা নয়। একটি দুষ্টচক্র দাম বাড়িয়ে গ্রাহকদের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অপারেটররা নির্ধারিত দামেই বিক্রি করছে। খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিতের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পদক্ষেপ নিতে হবে। জ্বালানি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।
দেশে প্রতি মাসে প্রায় ১৩ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। গত ডিসেম্বর দেশে ১ লাখ ২৭ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। এছাড়া স্থানীয়ভাবেও কিছু এলপিজি উত্পাদিত হয়। এমন প্রেক্ষাপটে দেশে খুচরা বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট হওয়ার কথা নয়। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল রবিবার লোয়াব প্রতিনিধিদের সঙ্গে জ্বালানি বিভাগের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সভার পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, বাজারে বর্তমানে যে ঘাটতি, তা কিছু ব্যবসায়ীর তৈরি কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণে হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার লোয়াবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম জানান, ‘বাজারে সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা রয়েছে। তবে এতে খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলার মতো নয়। শিল্পে সরবরাহ কমিয়ে খুচরা বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে আমাদের অগ্রাধিকার রয়েছে।’
লোয়াব সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি বিভাগ জানায়, বর্তমানে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। যদিও বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং জাহাজসংকট ও কিছু কিছু কার্গোর (জাহাজ) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আমদানি পর্যায়েও কিছু সংকট উদ্ভূত হয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে এলসি জটিলতার কারণে গত কয়েক মাস ধরে এলপিজি আমদানি করতে পারছে না বসুন্ধরা, বেক্সিমকো, নাভানা, অরিয়ন এবং ইউনিটেক্স। ২৮টি এলপিজি অপারেটরের মধ্যে বর্তমানে আমদানি করছে ৮-৯টি অপারেটর। আমদানিকারক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটররা এলপিজি কিনে বাজারে অবস্থান ধরে রাখছে।
ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কেজিতে ৪ টাকা ৪২ পয়সা বাড়িয়েছে বিইআরসি। এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সংবাদসম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন দাম ঘোষণা করেন। তবে গত এক মাস ধরে এলপিজির সরবরাহে ঘাটতি চলছে। ১২ কেজির প্রতি সিলিন্ডারে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন এলপিজি বিক্রেতারা। এছাড়া সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গাড়িতে ব্যবহূত এলপিজির (অটো গ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মাসে তা ছিল ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা।
জ/উ