প্রকাশ: শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০২৪, ১০:২২ পিএম

লক্ষ্মীপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মিছিলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে শহরের চকবাজার এলাকায় গণমিছিল শুরু হলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রকাশ্যেই অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করছে যুবলীগের এক কর্মী। ওই ব্যক্তি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একেএম সালাউদ্দিন টিপুর গাড়ি চালক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের চকবাজার জামে মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা। নামাজ শেষ হতে না হতেই সাবেক জেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সালাউদ্দিন টিপুর নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।
এ সময় মসজিদে আসা মুসল্লিসহ ছাত্র আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়। পরে কলেজ রোড এলাকায় আন্দোলনকারীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে মিছিল নিয়ে উত্তর তেমহুনীর দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন তারা।
এক পর্যায়ে মিছিলের পিছন দিক থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বাসার দিকে ইটপটাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিলকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে আন্দোলনকারীসহ কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিনা উসকানিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দিন টিপু ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ভূইয়ার নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কোটা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক যুবলীগের সভাপতি একেএম সালাউদ্দিন টিপু বলেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর করে। এছাড়া বাসা লক্ষ্য করে তারা ইটপাটকেল ছুড়ে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মোস্তফা স্বপন বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যারাই উসকানি দিয়ে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।