শেয়ারবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ নিতে হবে: রেহমান সোবহান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুলাই, ২০২৪, ৬:৫০ পিএম আপডেট: ০৮.০৭.২০২৪ ৬:৫৪ পিএম

ব্যাংক খাতের বিদ্যমান ঋণ দেয়ার পদ্ধতির বদল করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে ঋণের জন্য মূলত  শেয়ারবাজারকে বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান।

গতকাল রোববার (৭ জুলাই) সমাজ গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রেহমান সোবহান বলেন, এখানে আছে অদক্ষতা, আছে অবিচারও। এখানে স্বল্প সময়ের জন্য আমানত নিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। একশ্রেণির গ্রাহক আবার ঋণের টাকা ফেরত দিচ্ছে না। অর্থাৎ পদ্ধতিতেই গলদ রয়েছে। এজন্য ব্যাংক খাতের বিদ্যমান ঋণ দেয়ার পদ্ধতির বদল করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে ঋণের জন্য মূলত শেয়ারবাজারকে বেছে নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, বাংলাদেশে সরকারি তথ্য অনুযায়ী খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, তা ৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি হবে। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি।

প্রবন্ধে এম এম আকাশ বলেন, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের হার ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অথচ খেলাপি ঋণের হার ভারতে ৯ দশমিক ২, ইন্দোনেশিয়ায় ২ দশমিক ৯, শ্রীলঙ্কায় ২ দশমিক ৬,  নেপালে ২, ফিলিপাইনে ১ দশমিক ৯ এবং মালয়েশিয়ায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ।
প্রবন্ধে আরো জানানো হয়, ঋণ অবলোপন শুরু হয় ২০০২ সালে। আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছরেই (২০০৯-১৯) এ ঋণ অবলোপন বেড়েছে ৩১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৯ সালে ঋণ অবলোপন ছিল ১৫ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। এ অবলোপন ২০১৯ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ কীভাবে বাড়ছে, তার একটি চিত্রও তুলে ধরেন এম এম আকাশ। এক উপস্থাপনায় তিনি দেখান, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ী ছিলেন ১৮ শতাংশ। এরপর ১৯৭৩ সালের সংসদে ২৪ শতাংশ, ১৯৯০ সালের সংসদে ৩৮ শতাংশ, ১৯৯৬ সালের সংসদে ৪৩ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে এ হার ৫৮ শতাংশে পৌঁছায়। ২০০৮ সালে তা ১ শতাংশ কমে ৫৭ শতাংশ হলেও ২০১৪ সালে দাঁড়ায় ৫৯ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৬১ শতাংশে।

এম এম আকাশ বলেন, এস আলম গ্রæপের মালিকানাধীন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা বের হয়ে গেছে। এসব ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংক যে পরিমান টাকা দিয়েছে, তাও বের হয়ে গেছে।

ব্যক্তি খাতের ব্যাংকগুলোতেও খেলাপি ঋণের সমস্যা, ৬ ও ৯ শতাংশ সুদহার নীতির উদ্ভবের কারণ ও অভিজ্ঞতা, ব্যাংক একত্রীকরণ নীতির উদ্ভবের কারণ ও অভিজ্ঞতা, বাজেটঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়ার প্রতিফলন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এম আকাশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক, কোর্টল্যান্ডের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল দুটি আলাদা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সমাজ গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে সঞ্চালক ছিলেন এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। রেহমান সোবহানের পাশাপাশি আলোচক ছিলেন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর রিয়াজ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল বলেন, বিনিয়োগের প্রতি দরদ  দেখানোর কথা বলে সুদের হার ৯ শতাংশ ও আমানতের হার ৬ শতাংশ করা হয়েছিল। বাস্তবে ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বলেছেন, সুদের হার কমালে বিনিয়োগ বাড়বে। এটা ছিল মূলত অজুহাত। বিনিয়োগ কিন্তু বাড়েনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft