অযত্ন আর অবহেলায় বিলিন প্রায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী টাউন খাল
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৪:৫৫ পিএম

অযত্ন আর অবহেলায় প্রায় বিলিন হওয়ার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী টাউন খাল। তিতাস নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া ৪.৮ কিলোমিটারের টাউন খালকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল এই শহরের প্রাচীন বাণিজ্যিক কেন্দ্র। অথচ সেই খালই এখন  অস্তিত্ব হারিয়ে বর্জ্যরে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। 

বিভিন্ন অংশে কচুরিপানা জমে খালে পানির দেখা মিলেনা। বছরের পর বছর পার হলেও খালটি রক্ষায় পুঃন খনন বা সুপরিকল্পিত উদ্যোগ না নেয়ায় খালের বেশীরভাগ অংশ ভরাট হয়ে গেছে। আর যাও অবশিষ্ট রয়েছে তাতেও বর্জ্য ফেলে ভরাট হওয়ার পথে। আর এতে করে এক শ্রেণীর ভূমিদস্যুরা সুযোগ বুঝে নানাভাবে খালের অংশ দখল করছে। 

সচেতন মহলের অভিযোগ ক্রমাগত দখল আর দূষণে অস্তিত্ব হারাতে বসা খালটিকে রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের তেমন কোন তৎপরতা নেই। 

তাদের মতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ না নেয়ায় স্বরুপে ফিরছে না শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া এ খাল। তবে সংশ্লিষ্টরা বোলছেন, খালটিকে স্বরুপে ফিরিয়ে আনতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও পুনঃখননসহ নানামূখী পরিকল্পানা রয়েছে।

সরজমিন ঘুরে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার টাউন খালে এক সময় ছিলো পানির প্রবল প্রবাহ। তিতাস নদীর কান্দিপাড়া থেকে গোকর্ণঘাট পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করা খালটি দিয়ে একসময় বড় বড় নৌকায় করে ঢাকা, ভৈরব, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পন্য আনা নেওয়া করা হতো। আর এর স্বচ্ছ জলরাশি ছিলো মাছ ধরা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরদের হৈ-হুল্লোড় আর সাঁতরে বেড়ানোর আদর্শ স্থান। গৃহস্থালির নিত্যদিনের কাজও করা হতো এই খালের জলে। কিন্তু এখন সে সবই অতীত। তিতাস নদীর কান্দিপাড়া পয়েন্ট থেকে খালটির উৎপত্তি। শহরের পানি নিষ্কাশনে খালটি ভূমিকা রাখলেও তা নিয়ে কারো কোন চিন্তা নেই। খালের দু’ পাশে থাকা বিভিন্ন বাড়ি ঘরের বর্জ্য, বিভিন্ন দোকান, মার্কেট, হোটেল-রেস্তুরার বর্জ্য ফেলার জায়গা হয়ে উঠেছে ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলা খালটি। ঘুট ঘুটে কালো পানি আর চারপাশ ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে যেন নাভিশ্বাস। 
আর এজন্য সচেতন মহলের অভিযোগের তীর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোর দিকে। তাদের প্রশ্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়া সত্বেও কেন খালটির এই করুণ দশা। খালের বিভিন্ন অংশ অবৈধ দখলে চলে যাওয়ার পাশাপাশি নির্বিচারে বর্জ্য ফেলায় দিনের পর দিন সরু হয়ে পড়ছে। এতে করে ভারি বর্ষা মৌসুমেও এই খালে তেমন পানি থাকছেনা। মাটির পলি জমে ভরাট হয়ে থাকা খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহিত না হওয়ায় পানি বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। আর এতে হচ্ছে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ। যার বিরুপ প্রভাব পড়ছে জীব-বৈচিত্রের উপর।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণ মানুষের অসচেতনতা আর নগর পরিকল্পনাবিদদের উদাসীনতায় খালটি প্রায় হারিয়েই গেছে। খালটিতে পানি নেই, বিভিন্ন জায়গা ভরাট হয়ে গেছে। আর দখলদাররা ত রয়েছেই। খালটি ভরাট হতে হতে উচু হয়ে যাওয়ায় তিতাস নদীর যে পয়েন্ট থেকে খালের উৎপত্তি সেই পয়েন্টে ওয়াটার লেভেল সমন্বয় হচ্ছেনা। এতে খালে পানির প্রবাহ নেই। তাই খালটিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনলে ঐতিহ্যবাহী খালটি আবারো পুণরুজ্জীতি হয়ে উঠবে। আর নগরবিদদের আন্তরিকতা থাকলে ইতালির ভেনিস কিংবা বিদেশের বিভিন্ন নান্দনিক লেকের আদলে এটিকে গড়ে তুলতে পারেন। 

এদিকে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন “তরী” বাংলাদেশ এর আহŸায়ক মোঃ শামীম আহমেদ বলেন, কালের বিবর্তনে খালের অনেক অংশ এখন দখলদারদের কবলে রয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও উদ্ধার হওয়া জায়গাগুলোতে আবারো দখলদাররা ফিরে আসছে। এতে সাধারণ মানুষ অনেকটাই হতাশ। খালটির দু’পাশে অপরিকল্পিতভাবে সিসি বøক বসানোয় খালের প্রশস্থতা ও গভীরতা দুটিই কমেছে। খালটি এখন প্রায় মৃত। আমাদের দাবী দ্রুত এসব সিসি বøক অপসারণ করে পরিকল্পিতভাবে রিটার্নিং ওয়াল করে নদী সমমান খনন করে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হউক। এতে একদিকে যেমন খালটি বেঁচে যাবে, তেমনি এই খালকে ঘিরে শহরে একটি পর্যটন নগরীও গড়ে উঠবে। 

টাউন খালসহ শহরের বিভিন্ন খালের দুর্দশার কথা স্বীকার করে পৌর সভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল কুদ্দুস জানান, টাউন খাল পরিচ্ছন্ন করতে অভিযান চলছে। দ্রুতই খালটিকে পরিস্কার করা হবে। 

জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম বলেন, টাউন খালের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পৌরসভাসহ জনসাধারণকে সাথে বেশ কয়েকবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। 

এছাড়া সি.এস দাগ ধরে একশ’র মত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অবশিষ্ট কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি। এছাড়া টাউন খালের পাশাপাশি আখাউড়ার কালন্দি খালের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে যদি এই খালগুলো খননের জন্য যুক্ত করা যায় তাহলে খালগুলো খনন করা হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft