
গাজার আল-শিফা হাসপাতালের অবস্থা ভয়াবহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) জানিয়েছে, হাসপাতালটি কার্যত একটি কবরস্থানে রূপ নিয়েছে। হাসপাতালের বাইরে-ভেতরে মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। মর্গের রেফ্রিজারেটর কাজ করছে না, দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।
গতকাল সোমবার ডাব্লিউএইচও মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান জানিয়েছেন, আল-শিফা হাসপাতালে এখনো অন্তত ৬০০ জন রোগী আছেন।
এছাড়া রাস্তায় বহু রোগী আশ্রয় নিয়েছেন। হাসপাতালের চারদিকে ছিন্নভিন্ন দেহ ছড়িয়ে আছে। মরদেহগুলো তুলে আনাও সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে লড়াই চলছে। ক্রমাগত গুলি চলছে। মরদেহগুলো থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছে।
আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়ে আছে হাসপাতাল চত্বরে। চিকিৎসা করা কার্যত সম্ভব হচ্ছে না, কারণ, চিকিৎসা করার সরঞ্জাম নেই।
হাসপাতালটির চিকিৎসক মহম্মদ আবু সেলমিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের কর্তৃপক্ষ এখনো তাদের সাপ্লাই বন্ধ করে রেখেছেন। ফলে মৃতদেহ পচে যাচ্ছে হাসপাতালের ভেতরেও। হাসপাতালের ভেতর কুকুর ঢুকে পড়ছে। তারা মৃতদেহ খাওয়ার চেষ্টা করছে।
বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংস্থাটি জানিয়েছে, অসংখ্য প্রিম্যাচিওর শিশুকে ইনকিউবেটর থেকে বের করে নিতে হয়েছে। হাসপাতালে আলো থাকছে না। ইনকিউবেটর কাজ করছে না। অন্তত ৪৫ জন রোগীর ডায়েলেসিস প্রয়োজন। বিদ্যুতের অভাবে ডায়েলেসিসের যন্ত্র চালানো যাচ্ছে না। হাসপাতালে অ্যানেসথেশিয়ার ওষুধ নেই, রক্ত নেই। অথচ রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েই যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি।
এদিকে হাসপাতাল চত্বরে লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি, হাসপাতালের নিচে বাংকার বানিয়ে রেখেছে হামাস। সেখান থেকে তারা লড়াই চালাচ্ছে। ফলে হাসপাতাল বাঁচিয়ে লড়াই করা সম্ভব নয়। যুদ্ধবিমান থেকে বারবার এলাকায় বোমা ফেলা হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে হাসপাতালের ওপর।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গাজা শহরের অনেকটাই এখন তাদের দখলে। কিন্তু হামাসের হাইকমান্ড এখনো হাসপাতালের নিচে বাংকারে লুকিয়ে আছে। সেখান থেকেই তারা লড়াই পরিচালনা করছে। ফলে ওই বাংকার ধ্বংস করা অত্যন্ত প্রয়োজন। হামাস অবশ্য এ কথা স্বীকার করেনি।
সোমবার হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১,০০০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪,৫০০ শিশু বলে তাদের দাবি।