
এই ভূমিকম্পে প্রচুর বাড়ি ধসে পড়েছে। স্থানীয় মানুষ সারা রাত ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মানুষকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেছেন।
নেপাল সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ১২৮ জন মারা গেছেন। আহত অন্তত ১৪০ জন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। প্রচুর বাড়ি ভেঙেছে। তবে এর সঠিক সংখ্যা এখনই বলা যাচ্ছে না।
ভূমিকম্প এতটাই তীব্র ছিল য়ে, দিল্লিতেও বাড়িঘর প্রবলভাবে কেঁপেছে। ফ্যান দুলতে শুরু করে। বোতলে রাখা জলে কাঁপতে শুরু করে। বহুতল থেকে মানুষ নিচে নেমে আসেন। তবে দিল্লি বা উত্তর ভারতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।
নেপালের জাতীয় ভূমিকম্প মনিটরিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের পরিমাপ ছিল ছয় দশমিক চার। এর কেন্দ্র ছিল কাঠমান্ডু থেকে চারশ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে জাজারকোটে।
যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, প্রায় ১৮ কিলোমিটার নিচে এই ভূমিকম্প হয়ছে। ভূবিজ্ঞান নিয়ে জার্মানির গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, ১০ কিলোমিটার নিচে এই ভূমিকম্প হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জজারকোট ও রুকুম পশ্চিমের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। জাজারকোটে এখনো পর্যন্ত ৩৪ জন ও রুকুমে ৩৬ জনের মারা যাওয়ার খবর এসেছে।
রুকুমের জেলাশাসক হরি প্রসাদ পন্থ জানিয়েছেন, ''সকাল পাঁচটা পর্যন্ত খবর হলো রুকুমে ৩৬ জন মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।''
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর অফিস জানিয়েছে, ''প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কুমার ধূমল ভূমিকম্পে মানুষ মারা যাওয়ায় শোকপ্রকাশ করেছেন। পরিকাঠামোরও প্রচুর ক্ষতি হয়েছে।
তিনি সেনাবাহিনীকেও অবিলম্বে ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে নেমে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।''
নেপাল এমনিতেই ভূমিকম্পপ্রবণ। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটনিক প্লেটের ধাক্কার ফলে প্রায়ই এখানে ভূমিকম্প হয়।
২০১৫ সালে ভয়ংকর ভূমিকম্পে নয় হাজার মানুষ মারা গেছিলেন, আহত হয়েছিলেন ২২ হাজার মানুষ। আট হাজার স্কুল-সহ পাঁচ লাখ বাড়ি হয় ভেঙে পড়ে বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভারতের রাজধানীতেও প্রবলভাবে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দিল্লি, নয়ডা, গুরুগ্রামের মানুষ প্রবল আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ভূমিকম্পে। অনেকেই মাঝরাতে বাড়ির বাইরে চলে আসেন। অনেক বহুতল আবাসনে বাসিন্দাদের নিচে নেমে দাঁড়াতে বলা হয়।