
মাইলেজ জটিলতা নিরসনের দাবিতে গতকাল রবিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন রেলওয়ের রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।
এ সময় রাত ১২টার মধ্যে দাবি না মানলে কর্মবিরতির হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। এতে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঐক্য পরিষদের সভাপতি কবির আহমদ ভূইয়া। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, রিয়াদ হোসেন, রাজীব হোসেন, সোলায়মান রশিদ, ফরিদ আহমেদ, আকরাম হোসেন, এস আর মামুন, হাফিজুর রহমান, মুশফিকুর রহমান চৌধুরী বিপ্লব, তৌহিদুর মুরছালিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘আজকের (রবিবার রাত ১২টা) মধ্যে ১৮ জুন জারি করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইবাস শাখার চিঠি প্রত্যাহার এবং পূর্বের ন্যায় পার্ট অব পে ৭৫% মাইলেজ যোগে পেনশন ও আনুতোষিক নির্ধারণের সুস্পষ্ট আদেশ জারি করতে হবে।
রেলওয়ের রানিং স্টাফরা ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী পার্ট অব পে হিসেবে ট্রেন পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে রানিং স্টাফদের আইবাস সিস্টেমে যোগদান করতে বলা হচ্ছে। এতে একজন রানিং স্টাফ ৩০ দিনের বেশি মাইলেজ সুবিধা পাবেন না। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন তারা।
বর্তমানে আট ঘণ্টা ট্রেন পরিচালনার পর বিশ্রামে যাওয়ার নিয়ম থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে বলে চালক ও সহকারিদরকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রবিবার রাত ১২টার পর থেকে বন্ধ হয়ে যেতে পারে সারাদেশের ট্রেন চলাচল। রেলওয়ের রানিং স্টাফদের আন্দোলনের মুখে বন্ধ হতে চলেছে ট্রেন চলাচল।
মাইলেজ বিল ও আনুতোষিক নির্ধারণের সুস্পষ্ট আদেশ জারির দাবিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ঐক্য পরিষদ (লোকোমাস্টার, গার্ড, টিটিই) এ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
দাবি মানতে ২৭ আগস্ট রাত ১২ টা নাগাদ সময় বেধে দেওয়া। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই এ নিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের। গত ২৩ আগস্ট আন্দোলনরত সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বৈঠকেও বসেন রেলপথ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা। ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলা ওই বৈঠকে এ নিয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। রবিবার দুপুর নাগাদ রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে আন্দোলনরতদেরকে দাবি বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেলওয়েতে কর্মরত রানিং স্টাফ যেমন চালক, গার্ড ও টিটিই নির্ধারিত আট ঘন্টা দায়িত্ব পালনের পর থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলে মাইলেজ বিল পান। ওই মাইলেজ বিলের ৭৫ শতাংশ পেনশনের সঙ্গে যোগ হতো। পাশাপাশি লাইনেজ বিল দেওয়ার কোনো নির্ধারিত ‘সীমানা’ ছিলো না। যে যত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে এর পুরোটাই বিল পেতেন।
রেলপথ মন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া বৈঠক বিষয়ে একটি সূত্র জানায়, অন্দোলরতদের দাবি বিষয়ে মন্ত্রী খুব একটা আমলে নেননি। আন্দোলনরতদের স্পষ্ট করে কিছু বলেনওনি। যে কারণে ওই বৈঠকের পরও দাবি আদায় বিষয়ে আন্দোলনে যেতে অনড় সংশ্লিষ্টরা।
রেলওয়ের রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (লোকোমাস্টার, গার্ড, টিটিই) আখাউড়ার নেতা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দাবি বিষয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়। সর্বশেষ রেলপথ মন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া বৈঠক করেও এ বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। যে কারণে আন্দোলন অব্যাহত রাখা হয়েছে।