ভোলায় জোয়ারের পানিতে উপকূল তলিয়ে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
ভোলা প্রতিনিধিঃ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ আগস্ট, ২০২৩, ৫:০৮ পিএম

ভোলায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে বাঁধের বাইরে থাকা নিম্নাঞ্চলের অন্তত ১৫টি গ্রাম। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার ৩৫ হাজার মানুষ। বিপৎসীমার ওপরে পানি প্রবাহিত হওয়ায় টানা তিনদিন ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপকূলের মানুষ।

জলাবদ্ধতায় বাড়ছে অসুখ-বিসুখ। পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় রান্নার চুলো জ্বলেনি অনেকের ঘরে। টানা তিনদিন ধরে এ অবস্থা চললেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। 

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, খুব শিগগিরই এসব গ্রামকে বাঁধের আওতায় আনা হবে। সরেজমিনে দেখা গেছে, একদিকে প্রবল পানির চাপ অন্যদিকে জলাবব্ধতার দুর্ভোগ। 

পানিতে ভাসছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এমন চিত্র ভোলা সদরের রাজাপুর, ধনিয়া, ইলিশার ১৫ গ্রামের। নিম্নচাপ এবং পূর্ণিমার প্রভাবে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় টানা তৃতীয় দিনের মত বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। 

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব মানুষ। অনেকের ঘরে জ্বলেনি চুলো। শিশুদের বাড়ছে ওষুধ। তবুও নেই প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ এমন অভিযোগ পানিবন্দি মানুষের। 

দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের সাথী আক্তার, ইয়ানুর ও হালিমা বেগমের অভিযোগ, জোয়ারের পানিতে এভাবে দুর্ভোগ পোহালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বাঁধে আশ্রয় নিয়ে অনেকে কষ্টে আছেন উল্লেখ করে তারা আরও বলেন, পানিতে হাঁস-মুরগিসহ অনেক কিছু ভেসে গেছে, চুলা ডুবে যাওয়ায় রান্না হয়নি। 

ছেলে মেয়েরাও স্কুলে যেতে পারছে না। এদিকে বেড়িবাঁধ না থাকায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বর্ষা মৌসুম জুড়ে দুর্ভোগ আর অসহায় জীবনযাপন করলেও নজর নেই কারো এমন অভিযোগ জনপ্রতিনিধিদের। 

ইউপি সদস্য মাসুদ রানা বলেন, পুরো এলাকা ডুবে আছে, এসব মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা দরকার। মানুষ অনেক কষ্টে আছে।

ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মিঠু চৌধুরী বলেন, দুই/তিনদিন ধরে জোয়ারে ভাসছে বাঁধের বাইরের মানুষ। কষ্ট আর দুর্ভোগে দিন কাটছে তাদের। 

এ ব্যাপারে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মু. হাসানুজ্জামান বলেন, বাঁধের বাইরের রাজাপুর ও শিবপুর অংশে সমীক্ষা চলছে, এ কার্যক্রম শেষ আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব। তখন হয়ত খুব দ্রুত এসব এলাকাকে বিকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের আওতায় আনা হবে।

এ মৌসুমে মেঘনায় সর্বোচ্চ জোয়ার হয়েছে। উঁচু বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে উপকূলকে রক্ষার দাবি পানিবন্দি মানুষের।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  ভোলা   







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft